Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

থাকতেন কুঁড়ে ঘরে, চড়তেন ভাঙা সাইকেল, রাতারাতিই বৈভবের শিখরে এনজিও কর্তা

কয়েক বছর আগেও মাটির ছোট বাড়িতে থাকত রায়নার ক্ষেমতা গ্রামের এনজিও কর্তা। ভাঙা সাইকেল চালিয়ে ঘুরত।

থাকতেন কুঁড়ে ঘরে, চড়তেন ভাঙা সাইকেল, রাতারাতিই বৈভবের শিখরে এনজিও কর্তা
  • ৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, রায়না: কয়েক বছর আগেও মাটির ছোট বাড়িতে থাকত রায়নার ক্ষেমতা গ্রামের এনজিও কর্তা। ভাঙা সাইকেল চালিয়ে ঘুরত। হাতে টাকা থাকত না। টিউশনি করিয়ে কিছু টাকা আয় করত শেখ জিন্নার আলি। রাতারাতি ভোল বদলে যাওয়ায় চমকে যান এলাকার বাসিন্দারা। মাটির বাড়ি ভেঙে গ্রামে চোখধাঁধানো দু’টি বাড়ি তৈরি করে। প্রায় প্রতিটি রুমে রয়েছে এসি। ডেকরশনের কাজও চোখে লাগার মতো। 

Advertisement

জিন্নার বেশিরভাগ সময় কলকাতায় থাকত। গ্রামে ফিরত দামি গাড়ি চড়ে। কখনও সখনও গাড়ি বদল হতো। ইচ্ছে হলেই জমি কিনত। ‘হাইপ্রোফাইল’ জীবনযাপনে সে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। গ্রামবাসীদের দাবি, আগে আড়াই থেকে তিন বিঘা জমি ছিল। এখন তা প্রায় ২০বিঘা হয়ে গিয়েছে। জমি পছন্দ হলে তার কাছে দাম কোনও ফ্যাক্টর হতো না। টাকার ব্যাগ জমির মালিকের কাছে পৌঁছে যেত। অনেককে কাছে পেতে সে টাকাও বিলি করত বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি। সেই এনজিও কর্তার বাড়িতে বুধবার সকাল থেকেই ইডি আধিকারিকরা তল্লাশি শুরু করেন। বাড়ি থেকে কয়েকটি জমির দলিল উদ্ধার হয়েছে। ওই জমিগুলি কয়েক বছরের মধ্যে কেনা হয়েছিল। একটি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। 
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ওই এনজিও কর্তার সঙ্গে প্রভাবশালীদের সুসম্পর্ক রয়েছে। তার বাড়িতে বহু হেভিওয়েট এসেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার সঙ্গে নেতা, জনপ্রতিনিধি ও পুলিস আধিকারিকদের ছবি দেখা যায়। জামালপুরের বিধায়ক অলোক মাঝির সঙ্গে তাঁর অনেক ছবি রয়েছে। এছাড়া মন্ত্রী এবং অন্যান্য বিধায়কদের সঙ্গেও তাঁর বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি রয়েছে। বিধায়ক অলোকবাবু অবশ্য সাফাই দিয়ে বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে অনেকেই ছবি তোলেন। ও অন্যায় করলে ইডি ব্যবস্থা নেবে। গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, ওই এনজিও কর্তা নিজেও অত্যন্ত প্রভাবশালী বলে নিজেকে দাবি করত। কথায় কথায় সে নেতা এবং মন্ত্রীদের ফোন করত।
কিন্তু কীভাবে সে ফুলেফেঁপে উঠল? তদন্তকারীরা বলছেন, ওই এনজিও কর্তা বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীদের ফোন করত। কয়েকদিন আগে ইডি আধিকারিক পরিচয়ে এক ঠিকাদারকে ফোন করে। তার কাজে অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। পরে ওই ঠিকাদারের সন্দেহ হয়। তিনি ইডি অফিসে যোগাযোগ করেন। এরপরই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তার বিরুদ্ধে তদন্তে নামে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছে, সে বিভিন্ন প্রভাবশালীর সঙ্গে ছবি দেখিয়েও অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। অনেককেই কাজ পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়েছিল। নিজের প্রভাব বিস্তার করার জন্য জেলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করত। নিজেকে ‘অ্যান্টি ট্রাফিকিং কমিটি’র চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছে পৌঁছত। তাঁদের সঙ্গে তোলা ছবি ওই এনজিও কর্তার কাছে অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠত। গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ও কীভাবে এত টাকার মালিক হয়ে গেল তা জানি না। তবে প্রতি বছরই জমি কিনত। কয়েক মাস আগেই রাস্তার পাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ জমি কেনে। সেটির বাজারমূল্য আনুমানিক ৭৫ লক্ষ টাকা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ