Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হবিবপুরে সমবায়ের একই জমি একাধিকবার বিক্রি, চুপ প্রশাসন

হবিবপুরে সমবায়ের একই জমি একাধিকবার বিক্রি, চুপ প্রশাসন
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: মুখ্যমন্ত্রী সরকারি জমি এবং ফুটপাত দখল নিয়ে একাধিকবার সুর চড়ালেও স্থানীয় প্রশাসনের কানে সে কথা ঢুকেছে কিনা সন্দেহ। রানাঘাট ১ ব্লকের অন্তর্গত হবিবপুর এলাকার বিঘার পর বিঘা সরকারি জমি বেহাত হয়ে গেলেও কোনও পদক্ষপে করতে দেখা যাচ্ছে না প্রশাসনকে। এক সময়কার নববঙ্গ নামে একটি কো-অপারেটিভের জমি নিয়ে রীতিমতো ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ। 
Advertisement
ওই অঞ্চলটি নববঙ্গ কো-অপারেটিভ কলোনি হিসেবে পরিচিত। এক সময়ে কো-অপারেটিভ তৈরির চেষ্টা হলেও পরে তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। পরিচালন পরিকাঠামো অনুযায়ী ২০১১ সালের শেষবার কলোনির বোর্ড গঠন হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, দু’ বছর অন্তর সেই বোর্ডের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারপর আর ভোটাভুটি হয়নি। এই অব্যবস্থার কারণেই সেই অঞ্চল এখন হয়ে উঠেছে বেআইনি জমি কেনাবেচা চক্রের আঁতুড়ঘর। সবমিলিয়ে জমির পরিমাণ কম বেশি প্রায় ২০০ বিঘা। ১৩৭৮/১৩৭৩/১৩৭২/১৩৪০/১৩৩৪ সহ একাধিক দাগ নম্বর রয়েছে ওই সরকারি জমিতে। এরকম একাধিক উদাহরণ রয়েছে যেখানে একটি জমির একাধিক মালিক রয়েছে। অভিযোগ, কুমির ছানার মতো একই জমি একাধিক লোককে বিক্রি করা হয়েছে। সরকারি আইন বলছে, উদ্বাস্তু পুনর্বাসন দপ্তরের জমি সরাসরি বিক্রি করা যায় না। শুধু তাই নয়, জমির শ্রেণি বদলে সরকারি জমিতে তৈরি হচ্ছে মাল্টিপ্লেক্স, কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স। স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়লেও বিষয়টি নিয়ে নড়াচড়াই বন্ধ হয়ে গিয়েছে এ যাবতকালে। শেষ উদ্যোগ হিসেবে বিষয়টি নিয়ে রামনগর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে গত বছর জুন মাসে বিডিওর কাছে লিখিত আকারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছিল।
জমির বেআইনি কেনাবেচা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে উদ্বাস্তু পুনর্বাসন দপ্তর সটান জানিয়ে দেয়, গোটা বিষয়টি মহকুমা শাসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। রানাঘাটের মহকুমা শাসক ভরত সিং বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি স্বতপ্রণোদিত তদন্তের নির্দেশ দিচ্ছি। যদি দেখা যায় সরকারি জমি বেহাত হয়েছে, তাহলে তা পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করব। রানাঘাট মহকুমার ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক আব্দুল্লাহ জামাল বলেন, আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব। তবে মহকুমা প্রশাসনের একাধিক কর্তাই বকলমে স্বীকার করে নেন যে,  সরকারি ওই জমি নিয়ে বেআইনি ব্যবসা হয়েছে। এমনকী প্রশাসনের তরফে একবার স্টপ ওয়ার্ক নোটিসও দেওয়া হয়েছিল। তাতেও ফল হয়নি। স্থানীয় রাজনীতি সম্পৃক্ত হয়ে যাওয়ায় দিনের আলোয় সেই জমি বেহাত হচ্ছে। যদিও বেআইনিভাবে জমির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কো অপারেটিভের পূর্বতন কমিটির এক সদস্য নিখিল সরকার।  নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ