নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডিজিটাল শংসাপত্র নয়। ‘ভেন্ডিং সার্টিফিকেট’ হিসেবে হকারদের দেওয়া হবে একটি স্মার্ট কার্ড। তাতে থাকবে কিউআর কোড। যা স্ক্যান করে সহজেই সংশ্লিষ্ট হকার সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য মিলবে। ওই হকার অন্য কাউকে স্টল বিক্রি করলে বা নিজে হকারি না করে অন্য কাউকে জায়গা ভাড়া দিলে সহজেই তা ধরা পড়বে স্মার্ট কার্ড স্ক্যানের মাধ্যমে। ফলে স্টল বা ডালা বিক্রি যেমন রোখা যাবে, তেমনই বেআইনি হকার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে বলে মনে করছে কলকাতা পুরসভা। সেই সঙ্গে রাস্তায় হকার বসা বন্ধ করতে নিউমার্কেট, চাঁদনি চক মার্কেট সহ ধর্মতলা চত্বরে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে পুরসভা, টাউন ভেন্ডিং কমিটি (টিভিসি) এবং পুলিস।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর কয়েকজনকে ডিজিটাল সার্টিফিকেট দেওয়া হলেও আপাতত ৮ হাজার ৭২৭ জন হকারকে দেওয়া হবে ‘ভেন্ডিং সার্টিফিকেট’। শ্রীঘ্রই সেই প্রক্রিয়া শুরু হবে। হকার পুনর্বাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে সাড়ে আট হাজারের বেশি হকারকে ভেন্ডিং সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ওই কার্ডে কিউআর কোড থাকবে। কেউ বেআইনিভাবে ব্যবসা করলে সহজেই ধরা পড়বে।’ তিনি আরও জানান, এই প্রথম এক লপ্তে এতজনকে হকার শংসাপত্র দেওয়ার কাজ শুরু হচ্ছে। নিয়ম মেনে ফুটপাতে ব্যবসা করলেই মিলবে সার্টিফিকেট।
উল্লেখ্য, গত বছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহরের যেখানে-সেখানে হকার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তারপর দখলদার হকার সরাতে অভিযানও শুরু হয়। কিন্তু পুজোর মরশুম এসে যাওয়ায় সেই প্রশাসনিক তৎপরতা কার্যত থেমে যায়। চলতি বছর এপ্রিল থেকে ফের সেই অভিযান শুরু করে পুরসভা। নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের কারণে তা আবার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মে মাস থেকে টিভিসি ও পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে ফের ময়দানে নেমেছে কলকাতা পুরসভা। ২০২৪ সালে সমীক্ষা করে শহরের ৫৪ হাজার ১৭৮ জন হকারকে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম দফার সমীক্ষায় নথিভুক্ত হয়েছিলেন ১৪ হাজারের কিছু বেশি সংখ্যক হকার। তাঁদের মধ্যেই আপাতত ৮,৭২৭ জনকে শংসাপত্র দেওয়া হবে। এর জন্য পুরসভায় একটি ‘ওয়ান উইন্ডো’ ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এত সংখ্যক ভেন্ডিং সার্টিফিকেট তথা স্মার্ট কার্ড ইস্যু করার মতো পর্যাপ্ত পরিকাঠামো পুরসভার নেই। তাই চুক্তিতে বাইরে থেকে কর্মী এনে এই কাজ হবে বলে ঠিক হয়েছে। টিভিসির সদস্য এক হকার নেতা বলেন, ‘অনেক হকার রয়েছেন, যাঁরা ফুটপাতে ব্যবসা করলেও অনেকে বেশি জায়গা নিয়ে বসে আছেন। নিজেদের জায়গা ঠিকঠাক করে নিলে তাঁরাও সার্টিফিকেট পাবেন।’