Bartaman Logo
২৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হকারি: রাস্তা জবরদখল হলেই কড়া আইনি পদক্ষেপ, মৌখিক ‘নির্দেশ’ লালবাজারের

হকার উচ্ছেদ নিয়ে কঠোর রাজ্য সরকার। যাদবপুর, হাবড়া সহ একাধিক জায়গায় হকার উচ্ছেদ হয়েছে। তা নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে বিরোধী দলগুলি।

হকারি: রাস্তা জবরদখল হলেই কড়া আইনি পদক্ষেপ, মৌখিক ‘নির্দেশ’ লালবাজারের
  • ২২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হকার উচ্ছেদ নিয়ে কঠোর রাজ্য সরকার। যাদবপুর, হাবড়া সহ একাধিক জায়গায় হকার উচ্ছেদ হয়েছে। তা নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে বিরোধী দলগুলি। এই পরিস্থিতিতে এবার শহরের বড়ো বাজার এলাকাগুলিতে হকার নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিল লালবাজার। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট থানাগুলিকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেসব এলাকায় রাস্তা দখল করে হকার বসে রয়েছে, সেখানে আইনানুগ পদক্ষেপ করতে হবে। নিজ নিজ এলাকায় স্পেশাল ড্রাইভ চালানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই নিউ মার্কেট থানা এলাকার বারট্রাম স্ট্রিট চত্বরে তেমনই এক অভিযানে তিনজন হকারকে বেআইনিভাবে রাস্তা দখলের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

Advertisement

কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, বারট্রাম স্ট্রিটের উপর পাশাপাশি দু’টি স্টল খুলে বসেছিলেন দুই হকার। তাঁদের নাম মহম্মদ নিজাম ও মহম্মদ নিহাজ। নিজাম আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের বাসিন্দা। অন্যদিকে, নিহাজের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভিআইপি নগরের মার্টিন পাড়ায়। মহিলাদের পোশাক বিক্রি করেন তাঁরা। পুলিশের দাবি, এই স্টল নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে স্থানীয়রা অভিযোগ করছিলেন। পথচারীদের সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সেই মোতাবেক সেখানে ফোর্স নিয়ে পর্যবেক্ষণে যান নিউ মার্কেট থানার সার্জেন্ট মৃণালকান্তি চক্রবর্তী। বেআইনিভাবে রাস্তা দখল ও যান চলাচলের অসুবিধা সৃষ্টির জেরে গোটা স্টলই বাজেয়াপ্ত করা হয়। সব মিলিয়ে ৫০টি পোশাক বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় দুই হকারকে। নিউ মার্কেট থানায় নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের। অন্যদিকে, বারট্রাম স্ট্রিটের অন্যপ্রান্তে আরও এক হকারকে একই অভিযোগে পাকড়াও করা হয়। মহিলাদের প্রসাধনী সামগ্রীর স্টল ছিল তাঁর। সেখান থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয় মহিলাদের পরচুলা, ক্লিপ সহ বিভিন্ন সামগ্রী। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনজন হকারের বিরুদ্ধেই স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনজনই রাস্তা আটকে পথচারী ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়েছেন।যদিও নিউ মার্কেট জুড়ে এমন শ’য়ে শ’য়ে হকার বসেন। তাঁদের ভবিষ্যৎ কী? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেছিলেন, ‘গোটা নিউ মার্কেটই হকারদের দখলে। হাঁটাচলা করা যায় না।’ এবার হকার উচ্ছেদের কোপে বাকি নিউ মার্কেট নয় তো? সিঁদুরে মেঘ দেখছে গড়িয়াহাট, শিয়ালদহ, হাতিবাগান। শিয়ালদহের হকারদের একাংশ বলছে, ‘গরিবের পেটে লাথি মেরে কী লাভ? আমাদের উপর গোটা পরিবার নির্ভর করে। তুলে দিলে সরকার কি পুনর্বাসন দেবে?’ নিউ মার্কেটের এই তিন হকারকে উচ্ছেদের ঘটনায় নিত্যযাত্রী সুমিত ঘোষের মন্তব্য, ‘হকারদের জন্য নিউ মার্কেট চত্বরে হাঁটাচলাই করা যায় না। গাড়ি যেতে পারে না। তাহলে সবাইকে তোলা উচিত। কেন শুধুমাত্র তিনজনকে উচ্ছেদ করা হল?’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ