নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একের পর এক তোলাবাজির মামলা। একটিতে জেল হেপাজতের নির্দেশ মঞ্জুর হতেই আরেকটি মামলায় ফের পুলিশ হেপাজতে রেখে তদন্তের নির্দেশ দিল আলিপুর আদালত। দু’টি ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত একজনই! তিনি কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলার বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত।
সরকার বদলাতেই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগ জমা পড়ে পাটুলি থানায়। অভিযোগকারিণী পারমিতা দে পেশায় একজন আইনজীবী। তাঁর দাবি, বাড়ির নীচে আইনি পরামর্শদানের চেম্বার তৈরির করার জন্য তাঁর কাছে ২০ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়া হয়। ভোটে সরকার বদলানোর পরই ওই আইনজীবী পাটুলি থানায় কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ৭ জুন বাপ্পাকে গ্রেপ্তার করে পাটুলি থানা। ২১ জুন পর্যন্ত তাঁর পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ মঞ্জুর হয়। ১৪ দিন পর রবিবার ফের তাঁকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। সেখানেই সরকারি আইনজীবী জানান, বাপ্পাদিত্যের নামে আরও একটি তোলাবাজির মামলা যুক্ত হয়েছে। অভিযোগ, বছরখানেক আগে পাটুলির এক ব্যবসায়ীর থেকে ২ লক্ষ টাকা তোলা চান তৎকালীন কাউন্সিলার। সেই ঘটনায় এবার থানায় অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে, অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন তিনি। টাকা না দিলে প্রাণে মেরে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এই মামলার কথা আদালতে জানান সরকারি আইনজীবী। সওয়াল-জবাব শেষে প্রথম মামলার ক্ষেত্রে বিচারক অভিযুক্তকে জেল হেপাজতে পাঠান। কিন্তু, নতুন মামলার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেপাজতের আরজি মঞ্জুর করেন বিচারক। অর্থাৎ, আপাতত পাটুলি থানার গারদই বাপ্পাদিত্যের ‘ঠিকানা’!