Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সেমেস্টার পদ্ধতিতে মানিয়ে নিতে সমস্যা? মেধাতালিকায় ২৪ জন থাকলেও পাশের হারের নিরিখে পিছনের সারিতে পুরুলিয়া

উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমেস্টারে পুরুলিয়া জেলার ২৪ জন রাজ্যের মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে।

সেমেস্টার পদ্ধতিতে মানিয়ে নিতে সমস্যা? মেধাতালিকায় ২৪ জন থাকলেও পাশের হারের নিরিখে পিছনের সারিতে পুরুলিয়া
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমেস্টারে পুরুলিয়া জেলার ২৪ জন রাজ্যের মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে। যদিও সার্বিকভাবে জেলার ফলাফল হতাশাজনক। পাশের হারের নিরিখে অন্যান্য জেলাগুলির থেকে পুরুলিয়া অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। জেলায় ৮৮.৫৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাশ করেছে। পাশের হারের নিরিখে রাজ্যের মধ্যে ২২তম স্থানে পুরুলিয়ার নাম রয়েছে। এনিয়ে জেলা শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, সেমেস্টার পদ্ধতির সঙ্গে জঙ্গলমহলের পরীক্ষার্থীরা পরিচিত না হওয়ায় ফল খারাপ হয়েছে। যদিও সঠিক কী কারণ রয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা বৈঠকে বসতে চলেছেন। জেলার প্রতিটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বৈঠকে ডাকা হতে পারে। সেই বৈঠকে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) মহুয়া বসাকের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। 

Advertisement

মহুয়াদেবী বলেন, পাশের হারের নিরিখে জেলার ফল সার্বিকভাবে খারাপ হয়েছে। অন্যান্য জেলার থেকে পুরুলিয়া অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। এটা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। এনিয়ে আমরা দ্রুত পর্যালোচনা বৈঠকে বসব। তবে, এরই মাঝে ভালো বিষয় হল মেধাতালিকার নিরিখে এই জেলা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। 
সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃতীয় সেমেস্টারে রাজ্যে মোট ৯৩.৭২ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাশ করেছে। পাশের হারের নিরিখে শীর্ষ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা। ওই জেলায় পাশের হার ৯৬.৭২ শতাংশ। অন্যদিকে, পাশের হারের নিরিখে সব থেকে পিছনে রয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলা। ওই জেলায় পাশের হার ৮৭.১২ শতাংশ। উত্তর দিনাজপুরের আগেই স্থান হয়েছে পুরুলিয়ার। চলতি শিক্ষাবর্ষে জেলায় মোট পরীক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ৮৭৭ জন। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৮৮.৫৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাশ করেছে। অর্থাৎ, পাশের হারের নিরিখে রাজ্যস্তরে পুরুলিয়া পিছনের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। বিষয়টি জেলার শিক্ষামহলকে যথেষ্টই ভাবিয়ে তুলেছে। 
পুরুলিয়া জেলা উচ্চমাধ্যমিকের যুগ্ম আহ্বায়ক জ্যোতির্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নিঃসন্দেহে জেলায় ফলাফল খারাপ হয়েছে। আসলে, সেমেস্টার পদ্ধতিতে পড়ুয়ারা অভ্যস্ত নয়। এটা সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতি ছিল। হয়তো ওএমআর শিট ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্কুলভিত্তিক অনুশীলনে কোনও খামতি ছিল। যদিও আমাদের তরফে সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হবে। আগামী দিনে যাতে ফল ভালো হয়, সেক্ষেত্রে যা করণীয়, তা করা হবে। 
উদ্বেগ প্রকাশ করে এবিটিএর জেলা সম্পাদক ব্যোমকেশ দাস বলেন, স্কুলে স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাব ফলাফল খারাপের অন্যতম প্রধান কারণ। অবিলম্বে স্কুলগুলিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ না হলে আগামীতে শিক্ষাব্যবস্থার মান আরও নীচের দিকে যাবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ