Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আপনার কেওয়াইসি করা আছে? টাকা সাফ করে তামাশা, সাইবার প্রতারকদের ফন্দি নিয়ে বিভ্রান্ত পুলিস

দুপুরে এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীর অ্যাকাউন্ট থেকে উঠাও হয়ে যায় প্রায় দু’লক্ষ টাকা

আপনার কেওয়াইসি করা আছে?  টাকা সাফ করে তামাশা, সাইবার প্রতারকদের ফন্দি নিয়ে বিভ্রান্ত পুলিস
  • ১৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দুপুরে এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীর অ্যাকাউন্ট থেকে উঠাও হয়ে যায় প্রায় দু’লক্ষ টাকা। সন্ধ্যায় তিনি ফোন পান সাইবার অপরাধীর। অনেকটা সতর্ক করার ঢংয়ে ফোনের ওপার থেকে বলা হয়, ‘আপনার কেওয়াসি আপডেট করা আছে তো? একবার অ্যাকাউন্ট চেক করে দেখুন’। জামালপুরের বাসিন্দা প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় পরের দিন অ্যাকাউন্ট চেক করতে গিয়ে দেখেন, দু’টি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় দু’লক্ষ টাকা উধাও হয়ে গিয়েছে। একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লক্ষ ৭৩হাজার ৮৪০টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। অন্য‌ আ঩র একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ১৯ হাজার ৭০৪ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। সাধারণত সাইবার অপরাধীরা কেওয়াইসি আপডেট করার নামে গ্রাহকদের কাছে থেকে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য হাতায়। তারপর তারা অ্যাকাউন্ট সাফ করে। এক্ষেত্রে উল্টো হয়েছে। কোনও তথ্য শেয়ার না করে কীভাবে অ্যাকাউন্ট সাফ করা হল তা নিয়ে অবাক হয়েছে আধিকারিকরা। এক আধিকারিক বলেন, এমনটা আগে হয়নি। ওই ব্যক্তি হয়তো ফোনে কাউকে তথ্য দেননি, কিন্তু তিনি কোনও লিঙ্ক ক্লিক করে থাকতে পারেন। তাছাড়া কোনওভাবেই এটা সম্ভব নয়। সাইবার প্রতারকরা টাকা তুলে নেওয়ার পর মজা নিতে ফোন করেছিল। উনি সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানালে টাকা বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে।

Advertisement

অবসরপ্রাপ্ত ওই সরকারি কর্মী বলেন, প্রতারকদের কৌশল আগে থেকেই জানা ছিল। ফোন করে কেউ আমার কাছে তথ্য নেয়নি। কিন্তু তারপরও কীভাবে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হয়ে গেল তা বুঝতে পারছি না। প্রতারকরা দু’টি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলেছে। দু’টি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চয়ই তাদের কাছে ছিল। বিষয়টি জানিয়ে ব্যাঙ্ক ও থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আতঙ্ক রয়েছি। তারা আবার হয়তো অন্য কোনও কৌশলে টাকা হাতাতে পারে। ব্যাঙ্কে টাকা রাখা দায় হয়ে উঠেছে। প্রায় দু’লক্ষ টাকা উঠে গেলেও সঙ্গে সঙ্গে কোনও মেসেজ পাইনি।
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সাইবার প্রতারকরা প্রতিদিনই নতুন নতুন কৌশল সামনে আনছে। আগে তারা ফোন করে তথ্য হাতাতো। কিন্তু, এখন সেটা করছে না। বিভিন্নভাবে লিঙ্ক পাঠাচ্ছে। নিজেদের অজান্তেই অনেকে তাতে ক্লিক করছে। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, সাইবার ক্রাইম নিয়ে সচেতন করতে বিভিন্ন জায়গায় কর্মশালা করা হচ্ছে। স্কুল ও কলেজে গিয়েও সেমিনার করা হচ্ছে। কোনও তথ্য শেয়ার না করলে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা সম্ভব নয়।
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই সরকারি কর্মী জামালপুর থানায় অভিযোগ করেছেন। সেটির পরিপ্রক্ষিতে সাইবার থানা তদন্ত শুরু করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ