Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাতপাখার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে জামবনীর দুবড়া গ্ৰাম

জামবনী ব্লকের দুবড়া ‘হাতপাখার’ গ্ৰাম নামে পরিচিত।

হাতপাখার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে জামবনীর দুবড়া গ্ৰাম
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: জামবনী ব্লকের দুবড়া ‘হাতপাখার’ গ্ৰাম নামে পরিচিত। ফাল্গুন মাস এলেই গ্ৰামের দৃশ্যপট পাল্টে যায়। ঘরে ঘরে তালপাতার পাখা তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রথমে জঙ্গল ও জমি এলাকায় থাকা তাল গাছের পাতা সংগ্রহ করা হয়। বাড়িতে এনে ঝাড়াই বাছাই করে শুরু হয় পাখা তৈরির কাজ। বর্তমান ফ্যান, এসির যুগেও দুবড়ার  হাতপাখার কদর এতটুকু কমেনি। বংশপরম্পরা এই কুটিরশিল্প গ্ৰামের বাসিন্দারা আজও ধরে রেখেছেন। 

Advertisement

জামবনী ব্লকের দুবড়া প্রত্যন্ত গ্ৰাম। গাছপালার মাঝে মাটির দেওয়াল ও অ্যাসবেসটসের ছাউনি দেওয়া ছোট ছোট ঘর। বাসিন্দাদের বেশিরভাগই আন্ত্যজ সম্প্রদায়ের। বাড়ির পুরুষরা বছরের বেশিরভাগ সময় দিনমজুর, অন্যের বাড়িতে খাটাখাটনি করে সংসার চালান। ফাল্গুন-চৈত্র মাস এলেই  উঠোনো কিংবা বাড়ির সামনে বসে নানা বয়সের পুরুষ ও মেয়েরা তালপাতা দিয়ে পাখা বানাতে শুরু করে দেন। জৈষ্ঠ্য মাসের শেষ পর্যন্ত চলে এই ব্যস্ততা। ঝাড়গ্রাম ছাড়াও তালপাতা পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে বিক্রির জন্য যায়। পাইকাররা ১২ টাকা পিস ধরে এক একজনের কাছে হাজারের ওপর তালপাতা কিনে নিয়ে যান। খোলা বাজারে বিক্রি করলে তালপাতার দাম ১৫ টাকা মেলে। 
তালপাতা সংগ্রহের পর রোদে শুকাতে দেওয়া হয়। তারপর জলে ভিজিয়ে নরম করতে  হয়। পাতার ডাটির জায়গায় সতর্কভাবে কাটতে হয়। না হলে ভালো পাখা তৈরি হয় না। বাঁশের ছিলা দিয়ে পাখার চারপাশ বাঁধা হয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করলে দিনে একশোটা পাখা তৈরি করা যায়। দুবড়ার কালিন্দী পাড়ার বাসিন্দা রঞ্জিত বৈঠা বলেন, ফাল্গুন মাস থেকে গ্ৰামের ঘরে ঘরে তালপাতার পাখা তৈরি শুরু হয়ে যায়। জঙ্গল থেকে তালপাতা সংগ্ৰহ করে আনা হয়। আবার কারও জমিতে তাল গাছ থাকলে টাকা দিয়ে তালপাতা সংগ্ৰহ করি। পাতা প্রথমে রোদে শুকাতে হয়। তারপর জলে ভিজিয়ে নরম করা হয়। পাতার গোঁড়ায় লেগে থাকা ডাটির অংশ সতর্কভাবে কাটতে হয়। বাঁশের লম্বা ছিলা  পাতার চারপাশে সুতো দিয়ে বাঁধতে হয়। পাখা তৈরি হলে পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয় । বেশিরভাগ তালপাতা টাটা ও খড়গপুরে বিক্রির জন্য যায়। তালপাতার পাখা তৈরিই আমাদের মূল পেশা। প্লাস্টিকের পাখাও বাজারে বিক্রি হয়। কিন্তু তালপাতার পাখার চাহিদা কিন্তু কমেনি। সরকার যদি আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে তাহলে আরও বেশি তালপাতা তৈরি করা সম্ভব হবে। আর এক বাসিন্দা শ্রীকান্ত কালিন্দী বলেন, এই গ্ৰামে ৩২টি ঘর পাখা তৈরি করে। বছরের এই সময় গ্ৰামে চরম ব্যস্ততা থাকে। অন্য সময় জমিতে মজুর খেটে, দিন মজুরের কাজ করে সংসার চলে। বংশপরম্পরা ধরে গ্ৰামের পাখা তৈরির ঐতিহ্য এখনও ভাঁটা পড়েনি। গৃহবধূ সুখী বৈঠা বলেন, পাখা তৈরির কাজে মেয়েরাও হাত লাগাই। বিশেষ করে বাঁশের ছিলা তৈরিতে মেয়েরা বেশি দক্ষ। জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্ময়ী মারান্ডী বলেন, দুবড়া গ্ৰাম তালপাতার পাখা তৈরির জন্য পরিচিত। হাতপাখার প্রসারের লক্ষ্যে জেলা পরিষদের তরফে চিন্তাভাবনা চলছে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ