Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বোমা বিস্ফোরণে দু’জনের মৃত্যুর পর থমথমে লাভপুরের হাতিয়া

বোমা বিস্ফোরণে দু’জনের মৃত্যুর পর থমথমে লাভপুরের হাতিয়া গ্রাম। ধরপাকড়ের ভয়ে এই মুহূর্তে গোটা গ্রাম কার্যত পুরুষশূন্য

বোমা বিস্ফোরণে দু’জনের মৃত্যুর পর থমথমে লাভপুরের হাতিয়া
  • ২৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বোমা বিস্ফোরণে দু’জনের মৃত্যুর পর থমথমে লাভপুরের হাতিয়া গ্রাম। ধরপাকড়ের ভয়ে এই মুহূর্তে গোটা গ্রাম কার্যত পুরুষশূন্য। রবিবার তল্লাশি চালিয়ে ৩০টি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিস। উল্লেখ্য, নকল সোনার কয়েনের কারবারকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত থেকে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। বোমা বাঁধতে গিয়ে বিস্ফোরণে দু’জনের মৃত্যু হয়। উদ্ধার হওয়া প্রচুর বোমা রবিবার নিষ্ক্রিয় করে সিআইডির বম্ব স্কোয়াড। সংঘর্ষের ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাইফুদ্দিন শাহ নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।

Advertisement

নকল সোনার কয়েনের কারবারের জন্য বরাবরই কুখ্যাত লাভপুরের হাতিয়া। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহুদিন ধরেই গ্রামে এই কারবার চলছে। ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শেখ মহিউদ্দিন ও শেখ আবু কালাম ওরফে বাদলের গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ ছিল। চার মাস আগে বাদল গোষ্ঠীর চাপে মহিউদ্দিনরা গ্রাম ছাড়লেও ওইদিন রাতে ফিরে এলে দু’পক্ষের সংঘর্ষ ও বোমাবাজি শুরু হয়। অভিযোগ, শনিবার সকালে বাদল গোষ্ঠীর কয়েকজন পুকুরপাড়ে বোমা বাঁধছিল। সেসময় বিস্ফোরণে শেখ সাবের আলি ও শেখ পিয়ার আলি ওরফে আলমগির মারা যায়। যদিও মৃতদের পরিবারের দাবি, এই ঘটনায় তারা যুক্ত নন। বোমার হামলায় তাঁরা মারা গিয়েছেন। 
বিস্ফোরণের অভিঘাতে গোটা এলাকা এখনও থমথমে। পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে গ্রাম। ধরপাকড়ের ভয়ে বাড়ি ছেড়েছেন বহু মানুষ। শনিবার সকালে বিস্ফোরণস্থল থেকে ৩০টি তাজা বোমা উদ্ধার করেছিল পুলিস। রবিবার ফের টহল ও তল্লাশি অভিযানে আরও ৩০টি তাজা বোমা উদ্ধার হয়। সমস্ত বোমা এদিন সিআইডির বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড এসে নিষ্ক্রিয় করে। তবে গোটা ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুলিসের ভূমিকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুক্রবার রাত থেকে সংঘর্ষ চললেও অনেক দেরিতে গ্রামে ঢুকেছিল পুলিস। বিস্ফোরণের পর বোমা উদ্ধার হলেও এতদিন ধরে কীভাবে বিপুল পরিমাণ বোমা মজুত ছিল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, পুলিস আগে থেকেই নজরদারি ও তল্লাশি চালালে এত বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা নকল সোনার কয়েনের কারবার ও দুষ্কৃতীদের গতিবিধি নিয়ে প্রশাসনের অজানা থাকার কথা নয়। তবু কেন এতদিন পুলিস নিষ্ক্রিয় ছিল তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে গ্রামবাসীদের মধ্যে। গ্রামের বাসিন্দারা ‌আতঙ্কে ভুগছেন। প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ না করলে এই ধরনের ঘটনা ফের হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকার বাসিন্দারা। জেলার পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, স্বতঃপ্রণোদিত মামলা শুরু হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শীঘ্রই বাকিদেরও ধরা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ