Bartaman Logo
৬ আগস্ট, ২০২৬

প্রকাশ্যে এলেন না হাসিনা, ফের জানালেন ফিরবেন ডিসেম্বরেই

দেশে ফিরলে আমাকে মেরে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। তবুও আমাকে ঠেকাতে পারবে না। আমাকে মেরে ফেলুক। তবুও ফিরব‌ই।

প্রকাশ্যে এলেন না হাসিনা, ফের জানালেন ফিরবেন ডিসেম্বরেই
  • ৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দেশে ফিরলে আমাকে মেরে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। তবুও আমাকে ঠেকাতে পারবে না। আমাকে মেরে ফেলুক। তবুও ফিরব‌ই। জানালেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ডিসেম্বরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিজয় দিবস। তাই আমি ডিসেম্বরেই ফিরছি। প্রকাশ্যে এসে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা করার কথা ছিল। সেইমতোই জানানো হয়েছিল কর্মসূচিতে। কিন্তু বুধবার  ভারতে রাজনৈতিকভাবে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে এলেন না। দিল্লির গোপন বাসভবন থেকে তিনি অডিও বার্তায় যোগস্থাপন করলেন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সঙ্গে। জানালেন,  ১৯৮৩  সাল কিংবা ২০০৭, আমাকে প্রত্যেকবার দেশে ফিরতে বাধা দেওয়া হয়েছে। হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিরোধ করতে পারেনি। এবারও পারবে না। বাংলাদেশের মানুষের উপর চরম অত্যাচার হয়েছে এবং হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সব চিহ্ন মুছে ফেলা হচ্ছে। আমার পক্ষে আর সহ্য করা সম্ভব নয়। দেশের ইতিহাস ধ্বংস করা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। তাই আমি আসছি ডিসেম্বরেই। শেখ হাসিনা ভারতকে চিরকালীন বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেছেন। বলেছেন, ভারত আমাদের এবং বাংলাদেশের দীর্ঘকালীন বন্ধু ছিল, আছে এবং থাকবে। আমি ঢাকা থেকে চলে আসার আগে জানতাম না যে কোথায় যাচ্ছি। কিন্তু অতীতের মতোই সংকটের সময় সেই ভারতেই এসে পৌঁছলাম। ভারত বন্ধু বলেই এটা সম্ভব হল। 

Advertisement

হাসিনা এদিন বলেন, জুলাই মাসে কিন্তু শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। সংগঠিত কিছু গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। কোটা বিরোধী আন্দোলন ছিলই না। কারণ আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার সরকার আলোচনা করছিল। মহম্মদ ইউনুস নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, ওই আন্দোলন ছিল সরকার ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত। ব্যালটবক্সের বাইরে সরকার দখলের ষড়যন্ত্র। মেট্রো রেল, বিজ্ঞান কেন্দ্র, উড়ালপুল, কারাগার এগুলো কেন ধ্বংস করা হয়েছিল? বিপ্লবের নামে ৫০টি মিডিয়া হাউসকে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সাংবাদিক থেকে পুলিশ হত্যা করা হয়েছে। এটা কি কোটা বিরোধী ক্ষোভ হতে পারে? ৩ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আমি একটি সহজ প্রশ্ন করতে চাই? এরকম একটি পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে, সেই সরকারের কী করা উচিত ছিল? নৈরাজ্য কমাতে শান্তি ফেরাতে আমি ব্যবস্থা নিয়েছিলাম।
হাসিনা বলেন, আমি নিজেই ১৮ জুলাই বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলাম। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেই সেই কমিশন বন্ধ করে দেয় ইউনুস সরকার। জাস্টিস তারা চায়নি। আসলে সরকারি ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিল। এনসিপি নেতারাই বলেছে এই গণহত্যা না চালালে সরকারের পতন ঘটত না। সুতরাং এখন জলের মতো স্পষ্ট যে, এই প্যাটার্ন স্রেফ ঘুরপথে ক্ষমতা দখলের চক্রান্ত ছিল। আর এসবের মাস্টারমাইন্ড খোদ মহম্মদ ইউনুস। শেখ হাসিনা বারংবার বলেছেন যে, তিনি ফিরবেন বিজয়দিবসের মাসে। অর্থাৎ তিনি তারিখ স্পষ্ট না করলেও ১৬ ডিসেম্বরের আগেই ফিরতে চলেছেন শেখ হাসিনা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ