Bartaman Logo
৬ আগস্ট, ২০২৬

২০০০ টাকার উপর ইউপিআই লেনদেনে গুনতে হবে মাশুল?

ইউপিআই লেনদেন কি আর বিনামূল্যে নয়? ২ হাজার টাকার উপর ইউপিআই লেনদেনে এবার থেকে গুনতে হবে মাশুল!

২০০০ টাকার উপর ইউপিআই লেনদেনে গুনতে হবে মাশুল?
  • ৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ইউপিআই লেনদেন কি আর বিনামূল্যে নয়? ২ হাজার টাকার উপর ইউপিআই লেনদেনে এবার থেকে গুনতে হবে মাশুল! কেন্দ্রের নয়া বিল ঘিরে এমনই জল্পনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে ‘দ্য ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার ল’জ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল’ পেশ করেছেন। সেই সংশোধনী বিলেই নির্দিষ্ট অর্থের ইউপিআই লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শুধু ইউপিআই নয়, রুপে ডেবিট কার্ডেও নেওয়া হতে পারে সেই ‘মাশুল’। জানা গিয়েছে, ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে ০.২৫ থেকে ০.৪ শতাংশ পর্যন্ত এমডিআর ধার্য করার অনুমতি দিতে পারে সরকার। অর্থাৎ পুরানো আইনে ব্যাংক ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডাদের এই ‘মাশুল’ আদায়ের অনুমতি ছিল না। প্রস্তাবিত আইনে সেই রাস্তা খুলে দেওয়ার সংস্থান রাখা হয়েছে। বুধবার রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার মন্তব্যে এবিষয়ে আরও স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি বলেছেন, (পরিষেবা প্রদান বাবদ) এই খরচের দায়ভার কাউকে না কাউকে তো নিতেই হবে।

Advertisement

কিন্তু কাদের উপর চাপবে এই আর্থিক দায়ভার? রিপোর্ট অনুযায়ী, বছরে ১.৫ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করা মার্চেন্টদের (ব্যবসায়ী অথবা সংস্থা) উপর এই চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে। সাধারণ গ্রাহকরা সরাসরি এর আওতায় পড়ছেন না। তবে পরোক্ষে এর বোঝা বহন করতে হতে পারে তাদেরও। সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু, মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর বলতে কী বোঝায়? এটি হল ডিজিটাল পেমেন্ট প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যাংক ও পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির পরিষেবা মূল্য। বর্তমানে রুপে বাদে অন্যান্য ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডে পেমেন্টের ক্ষেত্রে এই চার্জ প্রযোজ্য হলেও ইউপিআই লেনদেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছিল। সেই নিয়ম উঠে যেতে পারে নতুন সংশোধনী বিলটি আইনে পরিণত হলে। তবে আপাতত সরকারি আধিকারিকরা বলছেন, এখনই কোনো ‘চার্জ’ কার্যকর হচ্ছে না। ইউপিআই-তে এমডিআর চালুর বিষয়ে এখনও আলোচনা চলছে। কত হারে চার্জ নেওয়া হবে বা কোন ধরনের লেনদেন এর আওতায় আসবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নয়া বিলের অন্য একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পৃথক লেনদেনের অঙ্কের বদলে ব্যবসায়ীর বার্ষিক টার্নওভারের ভিত্তিতে এমডিআর নির্ধারণ করা যেতে পারে। যাতে খুচরো ব্যবসায়ীরা তেমন প্রভাবিত না হন।
নয়া বিল ঘিরে জল্পনা ও চর্চার মধ্যেই এদিন এই ইস্যুতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া এসেছে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার তরফে। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেছেন, ‘এখনই কিছু বলার সময় আসেনি। সরকার সংশোধনী এনেছে। খরচের দায়ভার কাউকে না কাউকে তো বহন করতেই হবে। আমরা সবাই চাই জনগণের জন্য এই পরিষেবা কাঠামো শক্তিশালী হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া জারি থাকুক। দেখা যাক পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়!’ তাহলে কি সাধারণ মানুষের উপরই এর আর্থিক দায় এসে পড়বে? মালহোত্রার ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য, ‘দয়া করে মনে রাখবেন, শেষপর্যন্ত ক্রেতাকেই কোনো না কোনোভাবে এর মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ