রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: হাসিমারায় অসামরিক বিমানবন্দর নিয়ে এমপি মনোজ টিগ্গা ও রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বড়াইকের দাবি আর পাল্টা দাবি ঘিরে সরগরম জেলার রাজনৈতিক মহল। দু’জনের এই চাপানউতোরে বেজায় ক্ষুব্ধ লোকজন। যদিও স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক চাপানউতোর চাই না। আমরা বিমানবন্দর চাই।
চব্বিশের লোকসভা ভোটের আগে হাসিমারার সুভাষিণী চা বাগানের মাঠে এক সরকারি অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন হাসিমারায় রাজ্য
সরকার অসামরিক বিমানবন্দর তৈরিতে আগ্রহী। তারজন্য জমিও দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার
পর জমি অধিগ্রহণের জন্য
প্রশাসনিক তৎপরতাও শুরু হয়ে যায়।
তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বড়াইক বলেন, হাসিমারা বায়ুসেনা ছাউনির উত্তর দিকে ৩৮ একর জমি অসামরিক বিমানবন্দর তৈরির জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অসামরিক বিমানমন্ত্রকের কাছে পাঠানোও হয়েছে রাজ্যের তরফে। বিমানবন্দর তৈরির জন্য রাজ্য সরকার কেন্দ্রকে ছাড়পত্র দিয়েছে। রাজ্যসভার সাংসদের দাবি, এতসবের পরেও আমরা দেখছি বিমানবন্দর তৈরির বিষয়টির কোনও অগ্রগতিই হচ্ছে না।
যদিও তৃণমূলের রাজ্যসভার এমপি’র দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি এমপি মনোজ টিগ্গা। পাল্টা দাবি করে মনোজবাবু বলেন, রাজ্য সরকার শুধু ছাড়পত্র দিয়েই দায় সেরেছে। প্রস্তাবিত বিমানবন্দর তৈরির জন্য জমি অধিগ্রহণের কোনও নথি অসামরিক বিমানমন্ত্রকের হাতে পৌঁছয়নি। জমি হস্তান্তরও
হয়নি। অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রক হাসিমারায় প্রস্তাবিত বিমানবন্দর তৈরির জন্য প্রস্তুত আছে। জমি হস্তান্তর হলেই কাজ শুরু হবে।
হাসিমারায় বিমানবন্দর তৈরি হলে শুধুমাত্র গোটা ডুয়ার্স নয়, উপকৃত হবে নিম্নঅসম ও প্রতিবেশী দেশ ভুটানের নাগরিকরাও। এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তারজন্য হাসিমারায় অসামরিক বিমানবন্দর তৈরির দাবিতে বিভিন্ন মহল বহুদিন ধরে সোচ্চার হয়েছে।
এই দাবিতে ডুয়ার্স উন্নয়ন সংগ্রাম সমিতি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছে। সংগঠনের ব্যানারে ডুয়ার্সের শতাধিক ব্যবসায়ী সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রয়েছে। সংগঠনের তরফে হুমকি দেওয়া হয়েছে, দ্রুত হাসিমারায় অসামরিক বিমানবন্দর তৈরির কাজ শুরু না হলে ফের তারা ডুয়ার্সজুড়ে আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবে।
ডুয়ার্স উন্নয়ন সংগ্রাম সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক রাতুল বিশ্বাস বলেন, জেলার দু’জন জনপ্রতিনিধির দাবি পাল্টা দাবিতে আমরা বিরক্ত। দাবি পাল্টা দাবি নয়, সময় চলে যাচ্ছে। আমরা চাই, দ্রুত হাসিমারায় অসামরিক বিমানবন্দর তৈরির কাজ শুরু হোক। তা না হলে আমরা ফের রাস্তায় নামতে বাধ্য হব।