নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠন এবিভিপির ঝান্ডাধারী বহিরাগতদের তাণ্ডবের পর পাঁচদিন কেটে গিয়েছে। কিন্তু একজন অভিযুক্তও গ্রেপ্তার হয়নি। অভিযোগও হয়েছিল ঘটনার ৩৭ ঘণ্টা পর। সোমবার পুলিশ এসে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। তবে, এদিন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে যা বলেছেন, তাতে এক অদ্ভুত ধন্দ তৈরি হয়েছে। কারণ তিনি এদিন বলেন, ‘যাদবপুরে কিছু হয়েছে নাকি? ওখানে কোনো ঘটনাই ঘটেনি। সব নর্মাল আছে। পড়াশোনা হচ্ছে।’ বরং আর্টস ফ্যাকাল্টিতে কিষেনজিকে নিয়ে স্লোগানের কিছু ভিডিয়ো নিয়েই সরব ছিলেন শুভেন্দু। কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। উপাচার্যকে ভিডিয়ো পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে এতকিছুর পরও যাদবপুর-উত্তাপ কমছে না। এদিনও মিছিল-পালটা মিছিলে ক্যাম্পাস ছিল উত্তাল। বামপন্থী শিক্ষাকর্মী সংগঠনের মিছিল হয় সকালে। তারপরে পড়ুয়ারা ক্যাম্পাসে মিছিল করে অরবিন্দ ভবনে আসেন। এবিভিপির নেতৃত্বে বাংলার প্রবুদ্ধ সমাজ নাম দিয়ে আবার একটি মিছিল হয় ঢাকুরিয়ার দক্ষিণাপণ থেকে যাদবপুর এইটবি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত। তাদের এইটবি’র সভায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, যাঁরা এবিভিপির পড়ুয়াদের মেরেছে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ সাতদিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে থানা অভিযান হবে।
এদিন প্রথমে বৈঠক ছিল স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার কমিটির। সেখানে হস্টেলে নিরাপত্তার দাবি তোলেন পড়ুয়ারা। পাশাপাশি প্রাক্তন উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থারও দাবি ওঠে। তবে, ক্যাম্পাসে পুলিশ ফাঁড়ি বসানোর উদ্যোগের প্রতিবাদ করেছেন তাঁরা। এক কর্তা জানিয়েছেন, যে পর্যায়ের নিরাপত্তা পড়ুয়ারা চাইছেন, তার থেকে অনেক কম সংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন। যদিও উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য পড়ুয়াদের আশ্বাস দিয়েছেন, নিরাপত্তা ও সিসি ক্যামেরা বাড়াতে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাবেন তিনি।
বিকালের পর শুরু হওয়া সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বাম, টিএমসিপি এবং এবিভিপির প্রতিনিধিরা যোগ দেন। তবে, তা বয়কট করে আরএসএসের অধ্যাপক সংগঠন এবিআরএসএম। অধ্যাপক ভাস্কর সর্দার দাবি করেন, তাঁদের স্মারকলিপি জমা নেওয়ার জন্য সময় দিয়েও উপাচার্য অফিসে থাকেননি। তাঁরা ই-মেলে তা পাঠিয়েছেন। তাতে ক্যাম্পাসে পুলিশ ফাঁড়ি বসানোর দাবিও ছিল। বৈঠকে সরকারের প্রতিনিধিদেরও ডাকা হয়নি। এই অভিযোগে তাঁরা বৈঠকে যাননি। জানা যাচ্ছে, বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি ২৭ আগস্ট বৈঠক করবে। বুদ্ধদেববাবুর নেতৃত্বে থাকা স্টুডেন্টস গ্রিভান্স রিড্রেসাল সেলকেও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রথমে প্রাক্তন উপাচার্য শুভশঙ্কর সরকারকে মাথায় রেখে কমিটি হয়েছিল। অভিযোগ, কমিটির চেয়ারম্যান তথা সদস্যদের সঙ্গে কথা না বলেই শুক্রবার তাঁদের নাম ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। রবিবার শুভশঙ্করবাবু লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি দায়িত্বগ্রহণে আগ্রহী নন। নাম ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পর সদস্যদের ই-মেল পাঠানোর অভিযোগ ওঠে। ফলে, কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা এবং তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তবে, স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে মিটিং ক্রমেই উত্তপ্ত হতে থাকে। কার্যত ঘেরাও হয়ে থাকেন উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং অন্যান্যরা। টিএমসিপি এই ঘটনার জন্য শাসকদলের দিকে অভিযোগ তুলেছে। হামলায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছাত্র, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় এবং আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছে তারা। এরই মধ্যে এদিন বৈঠক শেষে বেরনোর সময় তিনি পড়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় উপাচার্যকে। তাঁর অভিযোগ, কেউ ধাক্কা দিয়েছে। যদিও আরএসএফের ইন্দ্রানুজ রায়ের দাবি, ‘উনি নাটক করছেন। কেউ ধাক্কা দেয়নি।’



