Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৃষ্টির সঙ্গে নামছে ক্ষতিকারক মাইক্রো প্লাস্টিক গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

বৃষ্টি হয়ে আকাশ থেকে নামছে মাইক্রো প্লাস্টিক। খালি চোখে তা দেখা না মিললেও তার প্রভাব আমাদের দেহে পড়ছে

বৃষ্টির সঙ্গে নামছে ক্ষতিকারক মাইক্রো প্লাস্টিক গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
  • ১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বৃষ্টি হয়ে আকাশ থেকে নামছে মাইক্রো প্লাস্টিক। খালি চোখে তা দেখা না মিললেও তার প্রভাব আমাদের দেহে পড়ছে। পাটনা আইআইটি’র বিজ্ঞানীরা গবেষণায় এই তথ্য পেয়েছে। ন’রকম মাইক্রো প্লাস্টিক তাঁরা বৃষ্টির মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন। বিজ্ঞানীরা গ্রাম এবং শহর এলাকার বৃষ্টির নমুনা ধরে পরীক্ষা করে। ৬৩ দিনের বৃষ্টির নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছিল। জুন মাস থেকে বৃষ্টির নমুনা নেওয়া হয়েছিল।

Advertisement

মাইক্রো প্লাস্টিক চোখে দেখা না গেলেও নিঃশ্বাসের মাধ্যমে তা শরীরে প্রবেশ করে বলে বিজ্ঞানীদের দাবি। পাটনা আইআইটি’র বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা পত্র নিয়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা চর্চা শুরু করেছেন। তাঁরা সেই গবেষণাপত্র তুলে ধরে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে প্রচার শুরু করেছে। কীভাবে বৃষ্টির মাধ্যমে প্লাস্টিক নামছে তা নিয়ে তাঁরা কয়েক দিন আগে সেমিনারেরও আয়োজন করেন। পড়ুয়াদের সামনে বিস্তারিত ব্যাখা দেন অধ্যাপকরা। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল বিভাগের অধ্যাপক নবকুমার মণ্ডল বলেন, কীভাবে মাইক্রো প্লাস্টিক বৃষ্টির মাধ্যমে নেমে আসছে তা পড়ুয়াদের জানানো হয়েছে। গোটা বিশ্বের কাছে প্লাস্টিক এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সর্বত্র প্লাস্টিকের ব্যবহার হলেও তা সেভাবে নষ্ট করা হয় না। দীর্ঘদিন ফাঁকা আকাশের নীচে প্লাস্টিক পড়ে থাকে। সূর্যের তেজে তা থেকে প্লাস্টিক সাইজার বাষ্পীভূত হয়। সেটাই পরে বৃষ্টির সঙ্গে নেমে আসছে। শুধু পাটনাতেই এমনটা হচ্ছে, তা মনে করার কারণ নেই। বৃষ্টির জল পরীক্ষা করলে সর্বত্রই মাইক্রো প্লাস্টিক পাওয়া যাবে। শিশুদের শরীরে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক ফাঁকা আকাশের নীচে পড়ে থাকলে তা কখনই নষ্ট হয় না। বছরের পর বছর ধরে একই অবস্থায় পড়ে থাকে। সেটির উপরের ভাগ থেকে প্লাস্টিক সাইজার বাষ্পীভূত হলেও বোঝা যায় না। এখন বিভিন্ন জায়গায় অ্যাসিড বৃষ্টি হচ্ছে। সেটাও দূষণের জেরেই। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে কী ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে চর্চা চলছে। 
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আর এক অধ্যাপক বলেন, সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সাগরের নীচেও টন টন প্লাস্টিক জমা হয়ে রয়েছে। তাতে সামুদ্রিক বহু প্রাণীর অস্তিত্ব বিপন্ন হতে বসেছে। প্লাস্টিকের ব্যবহার এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী দিনে মানব সভ্যতা আরও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। নবকুমারবাবু বলেন, ক্ষতিকারক মাইক্রো প্লাস্টিক বায়ুমণ্ডলে ভাসতে থাকে। সেটা খুব সহজেই শরীরে চলে যায়। দূষণ সৃষ্টিকারী প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ না করলে আগামী দিনে নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে আগামী প্রজন্মকে বড় খেসারত দিতে হবে। প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পও সর্বত্র চালু করা উচিত। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ