Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খেজুর গুড়ে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর রং, কেমিক্যাল ও ফ্লেভার! অভিযান চালাল খাদ্যসুরক্ষা দপ্তর

শীতকাল মানেই বাঙালির রসনা তৃপ্তিতে থাকে পিঠে, পায়েস, পাটিসাপ্টা।

খেজুর গুড়ে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর রং, কেমিক্যাল ও ফ্লেভার! অভিযান চালাল খাদ্যসুরক্ষা দপ্তর
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: শীতকাল মানেই বাঙালির রসনা তৃপ্তিতে থাকে পিঠে, পায়েস, পাটিসাপ্টা। এই মরশুমে এগুলি তৈরিতে খেজুর গুড় লাগে। অথচ খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরিতে ভেজাল মেশানোর অভিযোগ উঠছে। ‘লোভনীয়’ করতে খেজুরের গুড়ে ক্ষতিকর রং থেকে ফ্লেভার মেশানো হচ্ছে। রামপুরহাট মহকুমাজুড়ে এমনই ভেজাল খেজুর গুড়ের রমরমা শুরু হয়ে গিয়েছে। অভিযোগ পেয়ে বুধবার মাড়গ্রামে অভিযানে নামেন রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার খাদ্যসুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। দপ্তরের অফিসার তথা ডেপুটি সিএমওএইচ-২ প্রকাশকুমার রায় বলেন, চারটি জায়গা থেকে খেজুর গুড়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আজ, শুক্রবার নমুনাগুলি পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে। সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

Advertisement

রামপুরহাট, নলহাটি, মাড়গ্রাম, মল্লারপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় মুর্শিদাবাদ, নদীয়া সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে শিউলিরা এসে খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করছেন। সেই গুড় চলে আসছে বাজারে। শীতের এই সময় খেজুর গুড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। জোগান দিতে অধিকাংশ জায়গায় নকল খেজুরগুড় তৈরির অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, চিনি ও জল ছাড়াও ক্ষতিকর রং, ফ্লেভার মিশিয়ে এই গুড় তৈরি হচ্ছে। যা তৈরিতে খেজুর রসের ছিটেফোঁটাও ব্যবহার করা হচ্ছে না। কোথাও আবার খেজুর রসে বিভিন্ন ভেজাল মেশানো হচ্ছে। অথচ খাঁটি খেজুর গুড় বলে বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন দোকানে এখন ঩খেজুর গুড়ের রমরমা। ক্রেতারাও কিনে বাড়ি নিয়ে গিয়ে পছন্দের পিঠেপুলি তৈরি করেছেন। কিন্তু আসলে এগুলির অধিকাংশ ক্ষেত্রে নকল খেজুরগুড়, যা বিষাক্ত বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন খেলে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে মারণরোগ। 
রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জেনারেল ফিজিসিয়ান স্বরূপ সাহা বলেন, যে কোনও নকল জিনিস খেলেই শরীরে রাসায়নিক বিষক্রিয়া হতে পারে। কেমিক্যাল ব্যবহার করলে পেট খারাপ, বমি, জ্বর, গ্যাসের সমস্যা, এলার্জি, ডায়ারিয়া থেকে শুরু করে প্রাণহানি পর্যন্ত হতে পারে।  বিশেষ করে ছোট বাচ্চা, বয়স্ক মানুষ, ডায়াবেটিস রোগী বা ক্যান্সার আক্রান্তদের সমস্যা বেশি হবে। তাঁদের ইমিউনিটি কম। এখন এগুলির মধ্যে কী আছে না আছে পুরোটাই ল্যাবের পরীক্ষাসাপেক্ষ। এগুলো নকল গুড় হলে বা ক্ষতিকারক রাসায়নিক মেশানো হলে খুবই আশঙ্কার বিষয়। অবিলম্বে প্রশাসনিক দপ্তর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।  স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার মাড়গ্রাম থানা এলাকা থেকে এমনই বেশকিছু অভিযোগ আসে। তড়িঘড়ি খাদ্যসুরক্ষা দপ্তরের লোকজন অভিযানে নামেন। চারটি পৃথক জায়গা থেকে তাঁরা খেজুর গুড়ের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। যেগুলি ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। সেইসঙ্গে এই স্বাস্থ্যজেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযানে নেমে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ