সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: পাঁচ বছর বয়সী এক যক্ষ্মা (টিবি) রোগীকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে হইচই হরিশ্চন্দ্রপুরে। ওই ওষুধ খেয়ে শিশু অসুস্থ হয়ে যায় বলে দাবি করেছে তার পরিবার। আপাতত মালদহের এক শিশু চিকিত্সকের শরণাপন্ন হয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি, ইমেল অভিযোগ দায়ের করেছেন জেলাশাসক ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে।
এক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের মশালদহ বাজার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের যক্ষ্মা বিভাগের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র ট্রিটমেন্ট সুপারভাইজার (এসটিএস) ত্রিদেব শঙ্কর দুবের বিরুদ্ধে। যদিও তিনি মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক তাপস কুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ খেলে পরে আর কাজ করবে না। তবে, এমনটা ঘটার কথা নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মশালদহ পঞ্চায়েতের কোবাইয়া গ্রামের বাসিন্দা মেহেক ইসলাম। গত ১৩ তারিখে তার যক্ষ্মা রোগ ধরা পড়ে। চিকিৎসার জন্য মশালদহ বাজার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় পরিবার। সেখানে শিশুটির রিপোর্ট কার্ড তৈরি করার পর ২৮ দিনের জন্য দুই ধরনের তিনটি করে মোট ছ’পাতা ওষুধ দেওয়া হয়। তার মধ্যে তিনটি পাতার ওষুধের মেয়াদ দু’মাস আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে। পরিবারের কারও নজরে না আসায় ১১ দিনে ৩৩টি মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়ানো হয় শিশুকে। তার শারিরীক অবস্থা ভালোর পরিবর্তে খারাপ হতে থাকলে রবিবার বিকেলে স্থানীয় এক গ্রামীণ চিকিৎসকের কাছে যায় পরিবার। সেখানেই ওষুধের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
শিশুর দাদা ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ওষুধ দেওয়া হয়েছে বলে আর তারিখ দেখিনি। ১১ দিন ধরে ওষুধ খাওয়ার পর আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে বোন। কফের সঙ্গে রক্ত বের হচ্ছিল। ভয় পেয়ে গ্রামের এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে ওষুধ মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি নজরে আসে।
এরপর সন্ধ্যায় শিশুটিকে মশালদহ বাজার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ও সিনিয়র ট্রিটমেন্ট সুপারভাইজারের সঙ্গে দেখা হয়নি। এমার্জেন্সি বিভাগে শিশুকে দেখানোর পর সোমবার মালদহে এক শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায় পরিবার। ইমেল করে অভিযোগ জানানো হয় জেলাশাসক ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে।
সিনিয়ার ট্রিটমেন্ট সুপারভাইজার মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, অন্য কেউ হয়তো দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। শিশুটিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাকা হয়েছে। ওষুধ পাল্টে দেওয়া হবে।