Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঙালির পাতে এবার ‘হরিণঘাটা ফিশ’

প্যাকেট বন্দি বিভিন্ন রকম মাংস বিপণনে সফল হওয়ার পর এবার ‘হরিণঘাটা’ বাজারে আনতে চলেছে বাঙালির প্রধান খাদ্য মাছ।

বাঙালির পাতে এবার ‘হরিণঘাটা ফিশ’
  • ২৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দীপন ঘোষাল, কল্যাণী: প্যাকেট বন্দি বিভিন্ন রকম মাংস বিপণনে সফল হওয়ার পর এবার ‘হরিণঘাটা’ বাজারে আনতে চলেছে বাঙালির প্রধান খাদ্য মাছ। বাঙালির মনপসন্দ নানা ধরনের মাছ প্যাকেট বন্দি করে স্বল্পমূল্যে বিক্রির বন্দোবস্ত করছে এই রাজ্য সরকারি সংস্থা। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেই আত্মপ্রকাশ করবে ‘হরিণঘাটা ফিশ’। জনপ্রিয়তার নিরিখে বাংলার বাজারে হরিণঘাটার মাংস বেশ এগিয়ে। বেসরকারি সংস্থাগুলির প্যাকেট বন্দি মাংসের চেয়ে কম মূল্যে হরিণঘাটা মুরগি, পাঁঠা, ভেড়া সহ বিভিন্ন রকম মাংস ও মাংসজাত পণ্য বিক্রি করে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তাদের ব্রয়লার ইন্টিগ্রেশন প্রকল্পের সৌজন্যে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে প্রতিদিন ১৫ হাজারের বেশি মুরগি উৎপাদন করছে সংস্থাটি। এরমধ্যে হরিণঘাটা থেকে প্রতিদিন ৯ হাজার এবং উত্তরবঙ্গের ফাঁসিদেওয়া থেকে প্রতিদিন ৬ হাজার মুরগি উৎপাদন হয়। সপ্তাহে হরিণঘাটা লাইভ চিকেন (ফ্রোজেনের পরিবর্তে যেটি কাউন্টারে ক্রেতার সামনেই কেটে বিক্রি হয়), বিভিন্ন ফ্রোজেন মাংসজাত পণ্যের জন্য উৎপাদিত মুরগির সংখ্যা ২ লক্ষেরও বেশি। হরিণঘাটার উৎপাদিত উন্নতমানের মুরগির মাংসের দাম বাজারের চেয়ে অনেকটাই কম। এই মুহূর্তে লাইভস্টক কর্পোরেশন রাজ্যের ১৭টি জেলায় ১৭টি আলাদা আলাদা ইউনিটের মাধ্যমে তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত করতে সফল হয়েছে। কেবলমাত্র লাইভ চিকেন কাউন্টারই তিন শতাধিক। এই বাজারে নতুন সংযোজন হতে চলেছে ‘হরিণঘাটা ফিশ’। কী থাকছে এই প্রকল্পে? প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের ডব্লুবিএলডিসি সূত্রের খবর, মুরগির মাংসের মতোই এবার প্যাকেট বন্দি মাছ বিক্রি হবে হরিণঘাটার কাউন্টারগুলি থেকে। সাধারণত ভেড়িগুলিতে মাছের সাইজ দ্রুত বাড়াতে নানা ধরনেরে ওষুধ ও রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়। সেই মাছই বাজার থেকে কিনে খায় আম বাঙালি। কিন্তু হরিণঘাটা গ্রাম বাংলার পুকুর থেকে রসায়নিকবিহীন টাটকা মাছ সংগ্রহ করবে। তারপর সেগুলি মাংসের মতোই মোড়ক বন্দি করে বিক্রি করা হবে। ক্ষতিকারক রাসায়নিক ও ওষুধ তো থাকবেই না, বরং পুষ্টিগুণ অটুট থাকবে। মূলত রুই, কাতলা, বাটা, চারাপোনা, মৃগেলের মতো পুকুরের মাছ প্রক্রিয়াকরণের পর প্যাকেট বন্দি করা হবে। ২৫০ এবং ৫০০ গ্রাম, এই দুই ধরনের প্যাকেটে মিলবে ফ্রোজেন ফিশ। যা কমপক্ষে সাত দিন রেখে খাওয়া যাবে। কলকাতা এবং শহরতলির কমবেশি ১০০টি বিপণিতে মিলবে হরিণঘাটা ফিশ। পশ্চিমবঙ্গ লাইভ স্টক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর উৎপল কর্মকার বলেন, আমাদের হরিণঘাটার মাংস অত্যন্ত সফল একটি প্রজেক্ট। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ টাটকা মাংস আমরা বাজারের চেয়ে কম মূল্যে রাজ্যবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে পারছি। এবার রাসায়নিকবিহীন মাছ গ্রাম বাংলার পুকুর থেকে আমরা সংগ্রহ করছি। দুই ধরনের প্যাকেটে সেই মাছ প্রক্রিয়াকরণের পর প্যাকেট বন্দি করা হবে। তাতে পুষ্টিগুণ অটুট থাকবে। হরিণঘাটার কাউন্টারগুলি থেকেই মানুষ সংগ্রহ করতে পারবেন প্যাকেট বন্দি মাছ। ইতিমধ্যেই একাধিক বেসরকারি সংস্থা এই কাজ করে। বিদেশে এই ব্যবস্থা ব্যাপক প্রচলিত। ধীরে ধীরে আমাদের রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্র মানুষ ‘হরিণঘাটা ফিশ’ পাবেন।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ