Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল: ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেতে হয়রানি, সক্রিয় ‘দালাল চক্র’

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়েও দালাল চক্রের রমরমা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে। মাসের পর মাস ঘুরেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট মিলছে না। অথচ, দালাল ধরলে সেই রিপোর্ট পেতে কোনও সমস্যা নেই।

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল: ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেতে হয়রানি, সক্রিয় ‘দালাল চক্র’
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়েও দালাল চক্রের রমরমা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে। মাসের পর মাস ঘুরেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট মিলছে না। অথচ, দালাল ধরলে সেই রিপোর্ট পেতে কোনও সমস্যা নেই। এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। 

Advertisement

অভিযোগ, সকাল থেকেই ‘শিকারের’ সন্ধানে ঘুরতে থাকে দালালরা। হাসপাতালের মেন গেট থেকে ফরেন্সিক বিভাগের দরজা পর্যন্ত এদের অবাধ বিচরণ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কোথায় দেওয়া হয়? উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ঢুকে কেউ জানতে চাইলেই তার পিছু নেয় দালালরা। নানাভাবে সেই সব লোকদের বুঝিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয় তারা। এভাবেই কেউ কেউ এদের খপ্পরে পড়ছেন। কিন্তু সকলের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সহজে মেলে না। অনেক ঘোরাঘুরি করতে হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সক্রিয় দালাল চক্র। 
বুধবার ইসলামপুর থেকে এসেছিলেন সুভাষ দাস। তাঁর দাদা নারায়ণ দাস বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। গত ৮ জুন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের মর্গে নারায়ণের ময়নাতদন্ত হয়। তারপর থেকে রিপোর্টের জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন সুভাষ। এদিন তিনি জানান, ইসলামপুর থেকে বারবার আসতে অনেক খরচ। পাশাপাশি একটা দিনের কাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সম্পত্তির ভাগ, বিমার টাকা সহ বিভিন্ন কাজের জন্য দাদার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জরুরি। একমাস হয়ে যাওয়ার পরও সেই রিপোর্ট না পাওয়ায় প্রতিটি কাজে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ফরেন্সিক বিভাগে যোগাযোগ করে কোনও সদুত্তর মেলেনি। বাধ্য হয়ে মাটিগাড়া থানায় গিয়েছিলেন তিনি। বলা হয় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগ থেকে রিপোর্ট এখনও তারা পায়নি। তাই এদিন আবার মেডিক্যাল কলেজে এসছিলেন সুভাষ। তাঁর কথায়, এখানে হঠাৎই এক ব্যক্তি আমাকে বলেন তিন হাজার টাকা দিলে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বের করে দেবেন।  কিন্তু ওই ব্যক্তি কী করে জানলেন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য ঘুরছি? 
এখানেই প্রশ্ন, ফরেন্সিক বিভাগের কেউ কী এই দালাল চক্রের সঙ্গে যুক্ত? যদিও সুভাষ ওই দালালের মাধ্যমে টাকার বিনিময় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। শেষে তিনি মেডিক্যাল কলেজ ফাঁড়িতে পুলিসের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিতে যান। 
এদিকে, এই ঘটনায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান ডাঃ রাজীব প্রসাদ দালাল চক্রের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমরা সরাসরি কোনও ব্যক্তির হাতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দিই না। সংশ্লিষ্ট থানার পুলিসের কাছে প্রত্যেকটি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই বাড়ির লোকেরা রিপোর্ট পেয়ে যান। যদি কারও অভিযোগ থাকে, লিখিতভাবে জানালে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ