Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জিএসটি-টোলট্যাক্স নিয়ে হয়রানি, দিল্লিকে চিঠি দেবে রাজ্য, শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

জিএসটি-টোলট্যাক্স আদায়ে হয়রানির অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। তা নিয়ে দিল্লিকে চিঠি পাঠাবে রাজ্য। ব্যবসায়ীদের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রকে চিঠি পাঠাবে নবান্ন।

জিএসটি-টোলট্যাক্স নিয়ে হয়রানি, দিল্লিকে চিঠি দেবে রাজ্য, শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
  • ২০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: জিএসটি-টোলট্যাক্স আদায়ে হয়রানির অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। তা নিয়ে দিল্লিকে চিঠি পাঠাবে রাজ্য। ব্যবসায়ীদের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রকে চিঠি পাঠাবে নবান্ন। সোমবার শিলিগুড়ির দীনবন্ধুমঞ্চে উত্তরবঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবর্তেই পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পর কেন্দ্রের প্রত্যাঘাত ‘অপারেশন সিন্দুর’ পর্বে দেশের সঙ্গে থাকার বার্তা ফের দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে বাংলার প্রতি অর্থনৈতিক বঞ্চনা ও বৈষম্য এবং চা-বাগান ইস্যু নিয়ে ফের সরব হয়েছেন। মমতার বক্তব্য, কেন্দ্রের বঞ্চনার মধ্যেও আমজনতার জন্য প্রকল্প চালাচ্ছি। চা-বাগানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক। প্রয়োজন পড়লে তাঁর নেতৃত্বে একটি দল দিল্লিতে যাবে। 

Advertisement

দীর্ঘ ছ’বছর পর উত্তরবঙ্গে বাণিজ্য সম্মেলন করলেন মমতা। এদিনের সম্মেলনে তাঁকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন ব্যবসায়ীরা। উত্তর দিনাজপুরের ব্যবসায়ী শঙ্কর কুণ্ডু বলেন, টোলট্যাক্স, জিএসটি সহ বিভিন্ন ধরনের ট্যাক্সের নামে ব্যবসায়ীদের হয়রান করা হচ্ছে। এতে শিল্পে পরিবহণ খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটা কেন্দ্র দেখে। এ ব্যাপারে তাদের চিঠি দেব। তিনি মুখ্য সচিবকে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন। 
দেশের স্বার্থরক্ষা এবং বাংলার ঐক্যের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এক্ষেত্রে পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর পাক জঙ্গিদের হামলার পর কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যাঘাতের ইস্যুও তোলেন। মমতা বলেন, বাংলায় ধর্ম নিয়ে কোনও বিভেদ নেই। এখানে কোনও ধর্ম দেখা হয় না। কে কী খাচ্ছে, পোশাক পরছে, সেসব দেখা হয় না। আমাদের একটাই ঘর, বাংলা। বাংলা মোদের গর্ব। বাইরে থেকে অনেকে না জেনেই বাংলাকে ছোট দেখানোর চেষ্টা করে। পহেলগাঁও ইস্যুতে কেন্দ্রকে ফুল সাপোর্ট করেছি। দেশের স্বার্থে এখনও সমর্থন করছি। এটাই আমাদের স্ট্যান্ড। কেন্দ্রের কাজ কেন্দ্র এবং রাজ্যের কাজ রাজ্য করবে, এটাই চাই। 
সম্মেলনে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার এক ব্যবসায়ী শিল্প স্থাপনের জন্য জমির দাম কমানোর আর্জি জানান। তা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ফের কেন্দ্রর অর্থনৈতিক অবরোধ নিয়ে সরব হন মমতা। তিনি গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের বকেয়া পাওনা থেকে গঙ্গা ভাঙন, বন্যাত্রাণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে বঞ্চনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাওনা থাকলেও, দিচ্ছে না কেন্দ্র। ১০০ দিনের কাজের টাকা, বাংলা আবাসের টাকা, গ্রামীণ রাস্তা তৈরির টাকা, গঙ্গা ভাঙন, বন্যাত্রাণের অর্থ দিচ্ছে না। তা হলে ভাবুন সরকার কীভাবে চলবে? তাসত্ত্বেও রাজ্যবাসীর জন্য অসংখ্য প্রকল্প চালাচ্ছি। 
এদিনের সম্মেলনে চা বাগান ইস্যুতেও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নালিশ করেন ক্ষুদ্র চা বাগানের মালিকরা। ক্ষুদ্র চা চাষিদের পক্ষে বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, গত বছর নভেম্বর মাসে চা বাগানে পাতা তোলা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল টি-বোর্ড। এবারও সেই চক্রান্ত চলছে। তা শুনেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তাঁর নিদান, টি-বোর্ড ঘেরাও করুন। পাশাপাশি শ্রমমন্ত্রীকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। বিজেপি শাসিত কেন্দ্র সরকারকে কটাক্ষ করে  মমতার বক্তব্য, ভোটের আগে চা বাগান খোলার কথা বলব। আর ভোট মিটলে বন্ধ করব। এটা মানা যায় না। গৌতম দেব, পাহাড়ের অনীত থাপাকে নিয়ে মলয় বিষয়টি দেখবে। প্রয়োজন পড়লে তোমরা দিল্লিতে যাও।  সোমবার শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে উত্তরবঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী।-নিজস্ব চিত্র 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ