নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: পেটের তাগিদে বিজেপি শাসিত রাজ্যে গিয়ে হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন রানাঘাটের নেপাল মিস্ত্রি। কাজ ছেড়ে চলে আসেন বাড়িতে। দু’বেলা, দু’মুঠো ভাত জোগাড়ের আশ্বাস পেতে মঙ্গলবার গিয়েছিলেন ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ শিবিরে। ব্লক প্রশাসনের তরফে আশ্বাসও মিলেছে। চেষ্টা চলছে নেপালের বিকল্প আয়ের বন্দোবস্ত করে দেওয়ার।
রানাঘাট ২ ব্লকের শ্যামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের আরআইসি কলোনির বাসিন্দা নেপাল। ১৯৪৯ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ভিটেমাটি খুইয়ে কুপার্স ক্যাম্পে চলে এসেছিলেন তাঁর বাবা। সেখানেই পেয়েছিলেন একফালি জমি। তাতে টিনের দেওয়াল তুলে কোনওরকমে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছিলে। নেপাল ও তাঁর পরিবার আজও সেই বাড়িতে থাকেন। বয়স প্রায় ষাট ছুঁইছুঁই। সঙ্গে থাকেন স্ত্রী। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। পেট চালাতে নির্মাণশিল্পে সেন্টারিংয়ের কাজে গিয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে। সেখানে অন্য আর পাঁচজন বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের মতো তাঁর নির্যাতন শুরু হয়। আতঙ্কে কাজ ছেড়ে নেপাল বাড়ি চলে আসেন জুলাই মাসের মাঝামাঝি।
কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলবে কীকরে? তখনই তাঁর মনে পড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরে আসার আহ্বানের কথা। সঙ্গে সঙ্গেই নেপাল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে কীর্তিনগরে আয়োজিত ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ ক্যাম্পে গিয়ে দরবার করবেন। যেমন ভাবা, তেমনই কাজ। চলে যান ক্যাম্পে। সেখানে গিয়ে বিকল্প কাজ এবং কিছু সাহায্যের আর্জি জানান। নেপালের আবদার শুনে প্রথমে হকচকিয়ে যান প্রশাসনের কর্তারা। কারণ, শিবিরে হেনস্তার শিকার হওয়া বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের দরবারের ঘটনা এই প্রথম। হতাশাগ্রস্ত নেপালের কাছ থেকে পুরো বিষয়টি শোনেন সকলেই। কয়েকদিন সাংসার চালানোর কিছু সামগ্রীও তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে। বিকল্প রোজগারের ব্যবস্থা করার জন্য নেপালের নাম ঠিকানাও নিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা।
রানাঘাট ২ ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) শুভজিৎ জানা বলেন, ‘ওই ব্যক্তি আমাদের কাছে সাহায্য চাইতে এসেছিলেন। আমরা তৎক্ষণাৎ যতটুকু পেরেছি করেছি। ওঁর বিস্তারিত আমরা নোট করেছি। সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। ওঁকে আর কি কি ভাবে সাহায্য করা যায় সেটিও পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।’ রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘এরকম লক্ষ লক্ষ উদাহরণ রয়েছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকরা নির্মমভাবে অত্যাচারিত হচ্ছেন। তার জবাব বিজেপি বিধানসভা ভোটে পাবে। আমরা সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকের পাশে রয়েছি।’ এদিকে, বিজেপির নদীয়া দক্ষিণ সংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সোমনাথ কর বলেন, ‘যিনি সত্যিকারের ভারতের নাগরিক তাঁর কোনও সমস্যা নেই। তৃণমূল মিথ্যে প্রচার করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।’
নেপাল মিস্ত্রি কি তা হলে এখনও ভারতের নাগরিকত্ব পাননি? জবাবে নিরুত্তর গেরুয়া শিবির।