সংবাদদাতা, ইসলামপুর: স্কুলের লাইব্রেরিতে যৌন নির্যাতনের শিকার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। এতবড় কাণ্ড ঘটে গেলেও ছাত্রীদের নিরাপত্তায় ‘বাড়তি নজরদারি’ ছাড়া তেমন সদর্থক পদক্ষেপ করতে পারল না স্কুল কর্তৃপক্ষ। ফলে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন বাবা-মায়েরা। মঙ্গলবার ডালখোলার একটি স্কুলে ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বুধবার বৈঠকে বসে স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরিচালন সমিতি ও শিক্ষকদের মধ্যে বৈঠক হয়। তাতে পড়ুয়াদের উপর শিক্ষকদের বাড়তি নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে। এছাড়া ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফান্ডের অভাবে সিসি ক্যামেরাও বসাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।
আগেই স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এবার ছাত্রী যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। তারপরও কর্তৃপক্ষ হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে বলে অভিযোগ। অভিভাবক পঙ্কজ পাসোয়ান বলেন, মঙ্গলবারই আমরা স্কুলে গিয়ে বলেছিলাম, অন্ততপক্ষে লাইব্রেরিতে যেন সিসি ক্যামেরা বসানো হয়। এরকম ঘটনার পর সবাই পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন।
এদিন স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, বুধবার স্কুল স্বাভাবিকভাবেই চলেছে। শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। স্কুলের বড় গেট বন্ধ থাকবে। ছোট একটি গেট খোলা রাখা হবে। আপাতত অফিস রুমের সামনে একটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা আছে। লাইব্রেরি কিংবা অন্য কোথাও ক্যামেরা নেই। নতুন ক্যামেরা লাগানোর জন্য স্কুলে ফান্ড নেই। তবে শিক্ষক, শিক্ষিকাদের বাড়তি নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে।
স্কুল ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান কংগ্রেসের নিরালা বেগমের স্বামী আবিদ রেজা। তিনি বলেন, রাতে স্কুল চত্বরে মদ ও জুয়ার আসর বসে। স্কুলের পাশে রাতে ছেলে-মেয়েরা আড্ডা দেয়। আগেও এবিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু, পরিচালন সমিতি কোনও পদক্ষেপ করেনি। দু-একদিনের মধ্যেই পঞ্চায়েত থেকে এক প্রতিনিধি দল স্কুলে যাবে। ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য কিছু প্রয়োজন হলে পঞ্চায়েতের ফান্ড অনুসারে ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
আবিদের অভিযোগ প্রসঙ্গে কালাম বলেন, তিনি পরিচালন সমিতিকে কোনও অভিযোগ জানাননি। রাতে দুষ্কৃতীরা বাউন্ডারি টপকে স্কুল মাঠে ঢুকে যায়। স্কুলের তিনটি মেশিন চুরি হয়েছে। শিক্ষকেরা কি রাতে পাহারা দেবেন? স্কুল চলাকালীন কিছু হলে তার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। বাইরে কেউ কিছু করলে, স্কুল কর্তৃপক্ষ কি কিছু করতে পারবে?
এদিকে ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ধৃত পিওন মণীশ অধিকারীকে এদিন ইসলামপুর মহকুমা আদালতে তোলে ডালখোলা থানার পুলিস। ধৃতকে সাতদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।