Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সম্প্রীতির আবহে পালিত খুশির ঈদ সকালে নামাজ পাঠ, দুপুরে শপিংমল-পার্কে ঢল

দুপুরের পর রাস্তায় নামেন যুবক-যুবতীরা। তাঁরা পার্ক, দর্শনীয়স্থান, মাল্টিপ্লেক্স প্রভৃতি স্থানে ঘুরে বেড়ান।

সম্প্রীতির আবহে পালিত খুশির ঈদ সকালে নামাজ পাঠ, দুপুরে শপিংমল-পার্কে ঢল
  • ১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: খুশির ঈদ পালিত হল উত্তরবঙ্গে। সোমবার  কোচবিহার থেকে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি থেকে ফালাকাটা সর্বত্রই ঈদগহ, মসজিদ, স্টেডিয়ামে হাজার হাজার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ নামাজ পাঠে অংশ নেয়। একে অপরে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সৌহার্দ্য বিনিময় করতে কোথাও উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, আবার কোথাও কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ সহ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা। নামাজ পাঠের পর চলে মিষ্টিমুখ। বাড়িতে বাড়িতে ভালোমন্দ খাওয়াদাওয়ার আয়োজনও করা হয়। দুপুরের পর রাস্তায় নামেন যুবক-যুবতীরা। তাঁরা পার্ক, দর্শনীয়স্থান, মাল্টিপ্লেক্স প্রভৃতি স্থানে ঘুরে বেড়ান। 

Advertisement

এদিন সকালে শিলিগুড়িতে কাঞ্চজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে কেন্দ্রীয়ভাবে নামাজ পাঠের আয়োজন করা হয়েছিল। পুরসভা সহ মাটিগাড়া, ফুলবাড়ি এলাকা থেকেও এখানে নামাজ পাঠ করতে আসে বহু লোক। সাদা পায়জামা ও পাঞ্জাবি পরে ও মাথায় টুপি দিয়ে অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত ছিলেন মেয়র গৌতম দেব। তিনি সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্য বিনিময় করেন, শুভেচ্ছা জানান। এছাড়া হাসমিচকের জামা মসজিদ, কারবালা, পুরনো মসজিদ, হায়দরপাড়ার আশরফনগরের মসজিদ, এনজেপি, ফুলবাড়ির মসজিদে নামাজের আয়োজন করা হয়েছিল। 
সকালের অনুষ্ঠান শেষে বেঙ্গল সাফারি পার্ক, মাটিগাড়ার উত্তরবঙ্গ বিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে শুরু করে সিটি সেন্টার, সেভক রোডের শপিংমলগুলিতে লোকজনের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এর জেরে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সহ বিভিন্ন রাস্তায় তীব্র যানজট হয়। তা সামাল দিতে রাস্তায় নামে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিস। 
কোচবিহার জেলা আঞ্জুমান-ই-ইসলামিয়া আয়োজিত ঈদের নামাজ পড়া হয় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। উপস্থিত ছিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকশো মানুষ ঈদের নামাজ পড়েন। এদিকে, শহরের ভবানীগঞ্জ বাজারে অবস্থিত নতুন মসজিদেও ঈদের নামাজ পাঠ করা হয়। সেখানে হাজির ছিলেন কোচবিহার জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি আব্দুল জলিল আহমেদ। এছাড়াও এদিন শহরের রেলগুমটি, মসজিদপাড়া সহ জেলার সর্বত্র মসজিদে ঈদের নামাজ পাঠ হয়। ঈদ উপলক্ষ্যে গ্রামেগঞ্জে ছিল খুশির হাওয়া। শহরের দোকানে দোকানে চলে কেনাকাটা। দুপুরের পর থেকে শপিংমলগুলিতে ছিল ভিড়। 
এদিন আলিপুরদুয়ার জেলাজুড়ে নির্বিঘ্নে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ পালিত হয়েছে। সকাল থেকে মাদারিহাটের ইসলামাবাদের ঈদগাহ, রাঙালিবাজনা, আমবাড়ি ও বীরপাড়া জামা মসজিদে ঈদের নমাজ পড়তে ভিড় উপচে পড়ে। ফালাকাটার ঈদগাহ ও জটেশ্বরে সাড়ম্বরে ঈদ পালিত হয়। আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের মজিদখানা গ্রাম ও জেলা সদরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদেও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভিড় উপচে পড়ে ঈদের নামাজ পড়ার জন্য। আলিপুরদুয়ারের পুলিস সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, জেলাজুড়ে ঈদ উৎসব নির্বিঘ্ন সম্পন্ন হয়েছে।  
জলপাইগুড়ি শহরের মার্চেন্ট রোড, ৪ নম্বর ঘুমটি এলাকায় মসজিদে ঈদের নামাজ পড়তে ভিড় জমায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। শহরের নয়াবস্তি, পিলখানার মসজিদে ঈদের নামাজ পড়েন অনেকে। পরব উপলক্ষ্যে প্রিয়জন ও পরিবারের জন্য এদিনও জলপাইগুড়ি শহরের দিনবাজার, কদমতলা এলাকায় জামাকাপড়ের দোকান, শপিংমলে কেনাকাটা করতে দেখা যায় সংখ্যালঘু মানুষকে। ঈদ ঘিরে অনেক জায়গাতেই সম্প্রীতির ছবি ধরা পড়ে। বিকেলে ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঘুরতে বের হন অনেকে। জলপাইগুড়ির তিস্তা উদ্যান সহ বিভিন্ন শপিংমলে ভালোই ভিড় হয়।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ