নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয় ওই পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম তৃষা সাহা (২১)। স্নাতকোত্তর স্তরের প্রথম বর্ষের ছাত্রী তৃষা ছিলেন শিলিগুড়ির শিবমন্দিরের বাসিন্দা। অবসাদ থেকে মেয়ে আত্মঘাতী হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে হস্টেলের ঘরে তৃষা একাই ছিলেন। এদিন সকালে অন্য আবাসিকরা ঘুম থেকে উঠলেও অনেক বেলা পর্যন্ত তাঁর ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয় সহপাঠীদের। বিষয়টি কয়েকজন হস্টেল ওয়ার্ডেনের নজরে আনেন। খবর দেওয়া হয় রেজিস্ট্রারকে।
উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আভাসকুমার সিন্হা বলেন, হস্টেল মেট্রন এবং সিকিউরিটি ইনচার্জ আমাকে জানান একজন ছাত্রী ঘরের দরজা খুলছে না। আমি পুলিশকে খবর দিতে বলি। সিকিউরিটি ইনচার্জ এবং এক আধিকারিক কাঠমিস্ত্রি ডেকে এনে পুলিশের উপস্থিতিতে দরজা খোলেন। ছাত্রীকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। খুবই দুঃখজনক ঘটনা। ছাত্রী তৃষা সাহা আত্মঘাতী হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। গোটা বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
ভাগনির মৃত্যুর খবর পেয়ে চলে আসেন মামা অনিরুদ্ধ সাহা। তিনি বলেন, সকালে দোকান খোলার সময় বাড়ির ফোনে জানতে পারি ভাগনির মৃত্যুর কথা। ওর মৃত্যু, মেনে নিতে পারছি না। একদিকে পড়াশোনা, অন্যদিকে চাকরির পরীক্ষার চাপ। এসব নিয়ে তৃষা মানসিক অবসাদে ভুগছিল বলে জানান ছাত্রীর বাবা জীবন সাহা। তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ে একা থাকতে ভালোবাসত। রাতে আমার ছোট মেয়ের সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা বলেছিল তৃষা। এদিন সকাল থেকে স্ত্রী একাধিকবার মেয়ের মোবাইলে ফোন করলেও ফোন বেজে যাচ্ছিল। পরে মেয়ের এক সহপাঠী আমাদের বাড়িতে ফোনে জানায় তৃষার অবস্থা ভালো নেই। কিন্তু, এতবড়ো সিদ্ধান্ত তৃষা নিয়ে ফেলবে ভাবতেও পারছি না।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হস্টেলের দরজা খুলতেই দেখা যায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ছাত্রীর দেহ ঝুলছে। পুন্ডিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। • তৃষা সাহা।