Bartaman Logo
২১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দামোদরের কাছেই আবাস উপভোক্তাদের ১২০০-র বালি কিনতে হচ্ছে ৪ হাজারে, মেজিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশই সার

দামোদর নদ থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে বাড়ি মেজিয়ার বুধনি কেওড়া, হীরু কেওড়াদের। বুধনিরা আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির টাকা পেয়েছেন। নদের পাড়ে পাহাড়ের মতো বালির স্তূপ তাঁরা দু’বেলা দেখতে পান।

দামোদরের কাছেই আবাস উপভোক্তাদের ১২০০-র বালি কিনতে হচ্ছে ৪ হাজারে, মেজিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশই সার
  • ২১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: দামোদর নদ থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে বাড়ি মেজিয়ার বুধনি কেওড়া, হীরু কেওড়াদের। বুধনিরা আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির টাকা পেয়েছেন। নদের পাড়ে পাহাড়ের মতো বালির স্তূপ তাঁরা দু’বেলা দেখতে পান। বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে ওই বালি বোঝাই করে বড়ো বড়ো ডাম্পার চলে যায় ভিনজেলায়। অথচ বুধনিদের ট্রাক্টরপিছু চার হাজার টাকা দিয়ে বালি কিনতে হয়। এর আগে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের তরফে প্রতি ট্রাক্টর বালির দাম ১২০০ টাকায় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুরুলিয়ার মানবাজারের সভা থেকেও ওই দামে আবাসের উপভোক্তাদের বালি দেওয়ার নির্দেশ দেন। তারপরেও উপভোক্তাদের চড়া দামে বালি কিনতে হচ্ছে। বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, আবাসে উপভোক্তাদের ১২০০ টাকায় বালি দিতেই হবে। সরকারের নির্দেশ অমান্য করলে আমরা বালি কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।  

Advertisement

মেজিয়া বাগানগোড়ার বাসিন্দা হীরু কেওড়া বলেন, দামোদর থেকে তোলা বালি কলকাতা পর্যন্ত যাচ্ছে। অথচ নদীর পাড়ে আমাদের বাড়ি হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন ঘোষিত দামে বালি পাচ্ছি না। গত দু’মাসে ইট, পাথরের দামও অনেক বেড়ে গিয়েছে। এত দাম দিয়ে নির্মাণ সামগ্রী কিনতে হলে সরকারের দেওয়া টাকায় বাড়ির অর্ধেক কাজও হবে না। প্রশাসন অন্তত বালির দাম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করুক। তা না হলে আবাসের উপভোক্তারা চরম সমস্যায় পড়বেন।   
হীরু, বুধনিদের মতো বড়জোড়া হাঁড়িপাড়ার বাসিন্দা ময়না কেওড়াও বালির দাম নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারের দেওয়া টাকা বাড়ির ভিত মজবুত করতে গিয়েই ফুরিয়ে যাচ্ছে। অথচ লিন্টেল পর্যন্ত কাজ না হলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়া যাবে না বলে প্রশাসনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বালির যা দাম তাতে কোনোরকমে ছাদ ঢালাই করতে পারলে বেঁচে যাই। উল্লেখ্য, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের নাম বদলে পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনা হয়েছে। সম্প্রতি বাঁকুড়া জেলায় উপভোক্তাদের একাংশ বাড়ি তৈরির জন্য দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেয়েছে। ওই টাকায় তারা ফের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। পুজোর আগে অনেকেই কাজ শেষ করতে চাইছে। তবে এক্ষেত্রে বালি সহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীর জোগান নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বর্ষার কারণে জেলার নদনদীর বালি খাদান বন্ধ রয়েছে। ঘাট বন্ধ থাকায় বালি উত্তোলন করা যাচ্ছে না। কারবারিদের একাংশ বালি মজুত করে রেখেছে। তারা সেই ‘স্টক পয়েন্ট’ থেকে বালি বিক্রি করছে। জোগান কম থাকার ফলে হু-হু করে বালির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার এক বালি কারবারি বলেন, বহু টাকা রাজস্ব দিয়ে আমরা ঘাট লিজ নিয়েছি। ফলে আমাদের দিকটাও সরকারকে দেখতে হবে। তবে আবাসের উপভোক্তা হিসাবে কেউ প্রমাণ দেখাতে পারলে আমরা ‘স্টক পয়েন্ট’ থেকে যতটা সম্ভব কম দামে বালি বিক্রি করছি। তবে ফড়েরা এই সুযোগে যাতে কম দামে বালি নিয়ে গিয়ে মুনাফা না করতে পারে তাও দেখা হচ্ছে। 
বড়জোড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় বলেন, আবাসের উপভোক্তাদের সুলভে বালি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও, তা পূরণ করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। অবিলম্বে ডবল ইঞ্জিন সরকারকে বালি দিতে হবে।
বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তাপস বসু বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো আবাসের উপভোক্তারা যাতে ১২০০ টাকায় বালি পান, তা প্রশাসন দেখবে।
 মেজিয়ায় আবাসের অসমাপ্ত বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে উপভোক্তা হীরু কেওড়া। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ