নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পুজো আসছে। পুজোর নতুন জামা, নতুন সাজের সঙ্গে চাই ঝকঝকে চেহারা। আর সেই চেহারার টানেই মেদিনীপুর শহরের জিমগুলিতে এখন উপচে পড়ছে জেন-জির ভিড়। কারও লক্ষ্য ‘ফিট’ থাকা, কারও আবার তিন মাসের মধ্যেই চাই মাসকুলার বডি। কেউ বা স্পষ্ট বলছেন, পুজোর আগে চাই-ই-চাই সিক্স প্যাক! ফলে সকাল থেকে রাত—শহরের বিভিন্ন জিমে এখন তরুণ-তরুণীদের আনাগোনা।
জিমের ট্রেডমিলে ছুটছে পা। কেউ ব্যস্ত ওয়েট লিফটিংয়ে, কেউ আবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মাপছেন নিজের পেশির গড়ন। পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হতেই যেন শরীরচর্চাতেও বেড়েছে গতি। খাবারের তালিকাতেও এসেছে বদল। সিদ্ধ ডিম, চিকেন, দুধ, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি অনেকেই খাচ্ছেন প্রোটিন শেক। তবে প্রশিক্ষকদের একাংশের মতে, শরীরচর্চায় দ্রুত ফল পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন ধৈর্য ও সঠিক নিয়ম মেনে চলা। বর্তমান জীবনযাত্রা ও কর্মব্যস্ততার যুগে সুস্থ ও ফিট থাকার জন্য জিম বা ব্যায়ামাগার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুধু পেশি তৈরি কিংবা শরীরের গঠন বদল নয়! নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিক চাপ কমাতে, কর্মক্ষমতা বাড়াতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়ক বলে মত চিকিৎসকদের। আধুনিক জিমগুলিতে তাই শুধু ট্রেডমিল বা ওয়েট লিফটিং নয়, রয়েছে কার্ডিও, যোগব্যায়াম, জুম্বা, অ্যারোবিক্সের মতো নানা ধরনের অনুশীলনের সুযোগ। ফলে বয়স নির্বিশেষে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের ভিড় বাড়ছে। মেদিনীপুরের জিম প্রশিক্ষক সত্যম রায় বলেন, মূলত ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সীরাই এখন বেশি ভর্তি হচ্ছেন। পুজোকে কেন্দ্র করে জেন-জিদের মধ্যে শরীরচর্চার উৎসাহ বেড়েছে। এত বিপুল সংখ্যক নতুন সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে আমাদেরও ব্যস্ততা বেড়েছে। দ্রুত ফল পাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও শরীরচর্চায় নিয়মিত থাকা সবচেয়ে জরুরি।
মেদিনীপুর শহরের এক জিমের মালিক অসিতকুমার মণ্ডল বলেন, আমাদের জিমেও প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়েছেন। মানুষ আরও স্বাস্থ্য সচেতন হোক, সেটাই চাই। মেদিনীপুরের একটি জিমে শরীরচর্চা করতে আসা অক্ষয়কুমার সিংহ, পার্থসারথি ভট্টাচার্য ও স্নিগ্ধা সূত্রধরের কথায়, পুজোর আগে প্রতিদিন জিমে আসছি। শরীর ভালো থাকলে যে কোনও ধরনের পোশাকেই নিজেকে ভালো লাগে। পুজোর জন্য মুখিয়ে আছি।বিধায়ক শংকর গুচ্ছাইত বলেন, আমারও জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করার ইচ্ছে হয়। কিন্তু সময় হয়ে ওঠে না। নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরাই দেশের ভবিষ্যৎ। এরাই আগামী দিনে পথ দেখাবে।
সব মিলিয়ে পুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে এখনও কিছুটা দেরি। কিন্তু মেদিনীপুরের জিমগুলিতে যেন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে অন্যরকম ‘পুজোর প্রস্তুতি’। কারও হাতে ডাম্বেল, কারও কানে হেডফোন নিয়ে লক্ষ্য একটাই, পুজোর ক’দিনের জন্য নিজেকে আরও ফিট, আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলা।