Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিখোঁজ প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ ও বধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, তুমুল শোরগোল রঘুনাথপুরে, তদন্তে পুলিস

বৃহস্পতিবার সকালে রঘুনাথপুর থানা এলাকায় যুগলের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।

নিখোঁজ প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ ও বধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, তুমুল শোরগোল রঘুনাথপুরে, তদন্তে পুলিস
  • ২২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: বৃহস্পতিবার সকালে রঘুনাথপুর থানা এলাকায় যুগলের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতদের নাম প্রশান্ত চট্টোপাধ্যায়(৪০) ময়না ধীবর(৩০)। তাঁদের বাড়ি রঘুনাথপুর থানার বিলতোড়া গ্রামে। প্রশান্তবাবু রঘুনাথপুর-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সদস্য ছিলেন। এই মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার থেকে প্রশান্তবাবু ও গৃহবধূ ময়নাদেবী নিখোঁজ ছিলেন। এদিন রঘুনাথপুর থানার পাঁচপাহাড়ীর কাছে একটি বটগাছে দু’জনের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিস ঘটনাস্থলে যায়। তাঁদের উদ্ধার করে রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে এটা আত্মহত্যা নাকি খুন সেই বিষয়ে পুলিস তদন্ত শুরু করেছে।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, প্রশান্তবাবু এবং ময়নাদেবী দু’জনই বিবাহিত। প্রশান্তবাবুর স্ত্রী, এক ছেলে এবং মেয়ে রয়েছে। ময়নাদেবীরও স্বামী, এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। তাঁদের বাড়ি একই পাড়ায়। তবে প্রশান্তবাবুর স্ত্রী অসুস্থ থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাপেরবাড়িতে রয়েছেন। আর ময়নাদেবীর স্বামী ভিন রাজ্যে কাজ করেন। প্রশান্তবাবু এবং ময়নাদেবীর সম্পর্ক নিয়ে দুই পরিবারে ঝামেলাও হতো। তবে, ব্যক্তিগত বিষয় বলে প্রতিবেশীরা কিছু বলতেন না। স্ত্রীর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রশান্তবাবু প্রায়ই তাঁকে নাকি বাপের বাড়িতে রেখে আসতেন। অন্যদিকে ময়নাদেবীর স্বামী বাড়িতে এলেই ঝামেলা হতো। তাই অশান্তি এড়াতে ময়নাদেবীর স্বামী কখনও তিন মাস কখনও ছ’মাস অন্তর বাড়িতে আসতেন। এবার মনসা পুজো উপলক্ষ্যে তিনি বাড়ি এসেছিলেন।
মৃত প্রশান্তবাবু ভাই সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, দাদা বুধবার বিকালে বাড়ি থেকে বের হয়। রাতে আর বাড়ি ফেরেনি। বন্ধু-বান্ধবদের ফোন করেও দাদার কোনও সন্ধান পাইনি। সকালে ঘটনার কথা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যাই। এর বেশি কিছু আমার জানা নেই।
ময়নাদেবীর স্বামী পার্থ ধীবর বলেন, বাইরের রাজ্যে কাজ করি। পুজোর সময় বাড়িতে আসি। তার বেশি কিছু বলতে পারব না। উভয়ের সম্পর্ক ঘিরে অশান্তির জেরেই যুগলের আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা ঘটেছে কি না, পুলিস খতিয়ে দেখছে। পুলিস জানিয়েছে, একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে দেহ দু’টি পুরুলিয়া জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। প্রশান্তবাবুর মোবাইল থেকে কিছু তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেটা দেখা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ