নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বাংলার ঐতিহ্যশালী তাঁতশিল্পের প্রসারে দুর্গাপুজোর আগে মেদিনীপুর শহরে তাঁতবস্ত্র প্রদর্শনী ও মেলা শুরু হল। ২১সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই মেলা চলবে। সোমবার জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মেলার উদ্বোধনে সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি, বিধায়ক অজিত মাইতি ও সুজয় হাজরা, হস্তচালিত তাঁত উন্নয়ন আধিকারিক তপনকুমার দে সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এবছর মেলায় ৯৪টি স্টল বসছে। দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের পাশাপাশি বর্ধমান, নবদ্বীপ, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, হাওড়া সহ বিভিন্ন জেলার শিল্পীরা পসরা সাজিয়ে বসেছেন। এক আধিকারিক বলেন, গতবছর মেলায় ৯৫টি স্টল বসেছিল। সেবার ৪কোটি ২২ লক্ষ ৬২হাজার টাকার জিনিস বিক্রি হয়েছিল। এবছরও কয়েক কোটি টাকার জিনিস বিক্রি হবে। মেলার পাশাপাশি তাঁতবস্ত্র নিয়ে বিশেষ সেমিনারে বিভিন্ন এলাকার তাঁতশিল্পীরা অংশ নেবেন।
সভাধিপতি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী শিল্প বাঁচিয়ে রাখতে চান। তাঁর নির্দেশেই মেলা হচ্ছে। মেদিনীপুরের মানুষকে মেলায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আশা করছি, এবছর ভিড়ের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে যাবে। জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ বলেন, এই উদ্যোগের ফলে শিল্পীরা উৎসাহ পাবেন। তৃণমূল সরকারের আমলে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পীরা নানা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।বাম আমলে ১৯৮৩সালে প্রথমবার তাঁতবস্ত্র মেলার সূচনা হয়। প্রথমদিকে হাতে গোনা কয়েকটি স্টল নিয়ে মেলা শুরু হয়েছিল। তবে ২০১১সালের পর থেকে মেলার পরিসর বাড়তে শুরু করে। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা জানান, বিগত তিনবছর ধরে বেশ ধুমধাম করে এই মেলা হয়। রোজ মেলায় দু’তিন-হাজার মানুষের সমাগম দেখা যায়। শনি ও রবিবার সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকে। এবছর মেলায় জামদানি শাড়ি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সিল্কের পোশাক, বিছানার চাদর, ওড়না পাওয়া যাচ্ছে। পুরুষদের জন্যও মেলায় নানা পোশাক মিলবে।
জেলা পরিষদের ক্ষুদ্র শিল্প ও বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ চন্দনকুমার সাহা বলেন, শিল্পীরা এখন খুব সহজে ঋণ পাচ্ছেন। এর ফলে শিল্পীদের আর্থিক উন্নতি হচ্ছে। আমরা সবসময় শিল্পীদের পাশে থাকব। জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক বলেন, এবছরও মেলায় বিক্রি বাড়বে।-নিজস্ব চিত্র