Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোচবিহার: অবশেষে পদত্যাগ হলদিবাড়ি, মাথাভাঙার পুর চেয়ারম্যানের, রবি ঘোষকে নিয়ে জল্পনা

দলীয় নির্দেশ মেনে অনেক টালবাহানার পর অবশেষে শুক্রবার হলদিবাড়ি ও মাথাভাঙা পুরসভার চেয়ারম্যান পদত্যাগ করলেন।

কোচবিহার: অবশেষে পদত্যাগ হলদিবাড়ি, মাথাভাঙার পুর চেয়ারম্যানের, রবি ঘোষকে নিয়ে জল্পনা
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: দলীয় নির্দেশ মেনে অনেক টালবাহানার পর অবশেষে শুক্রবার হলদিবাড়ি ও মাথাভাঙা পুরসভার চেয়ারম্যান পদত্যাগ করলেন। এবার কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ কি করবেন তা নিয়ে দলের মধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। ওই দুই চেয়ারম্যান ও তুফানগঞ্জ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তনু সেনের মতো তিনিও কী নির্দেশ মেনে সরে দাঁড়াবেন, নাকি পদ আঁকড়ে থাকবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও শুক্রবার সন্ধ্যাতেও রবীন্দ্রনাথ ঘোষ নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন বলে সাফ জানিয়ে দেন। বৃহস্পতিবার রবিবাবু দাবি করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেটা পালন করবেন। এদিনও তিনি সেই একই দাবি করেন। ফলে কোচবিহার পুরসভা নিয়ে একটা জটিলতা থেকেই গেল। 

Advertisement

এদিকে, রবি ঘোষ, লক্ষপতি প্রামাণিক, শংকরকুমার দাসের মতো বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতাকে পুর চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানোর বিষয়টি নিয়ে দলের গোষ্ঠীকোন্দল ফের প্রকাশ্যে এসেছে। লোকসভা নির্বাচনের আগে দল যে ঐক্যের বার্তা দিয়েছিল বর্তমান পরিস্থিতিতে তা যেন অনেকটাই ফিকে হয়ে গিয়েছে। 
যদিও উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। মন্ত্রী বলেন, দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কোনও বিষয় নেই। রাজ্য নেতৃত্ব যেমন চাইবে তেমনটাই হবে। অন্যদিকে, কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, আমার অবস্থান একই রয়েছে। আমাকে রাজ্য থেকে কিছু জানানো হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ পাওয়ামাত্র পদত্যাগ করব। 
অন্যদিকে, দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে এদিন হলদিবাড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন শংকরকুমার দাস ও ভাইস চেয়ারম্যান অমিতাভ বিশ্বাস। শুক্রবার দুপুরে মেখলিগঞ্জের এসডিওর কাছে তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা করেন। শংকরবাবু দুই টার্মে চেয়ারম্যান ছিলেন। গত পুর নির্বাচনে ১০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হয়েছিলেন। অমিতাভ বিশ্বাস জয়ী হয়েছিলেন ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে। মঙ্গলবার রাতে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে পদত্যাগ করার নির্দেশ আসে। এরপরেই দলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বেঁকে বসেন হলদিবাড়ি পুরসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলার। বুধবার মেখলিগঞ্জের বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারী বৈঠকে বসলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বৃহস্পতিবার মেখলিগঞ্জে এই ইস্যুতে বৈঠকে বসেন তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহারের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। তবুও তাঁরা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। শুক্রবার হঠাৎই তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দেন। এমএলএ পরেশচন্দ্র অধিকারী বলেন, বর্তমানে এই পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিক পুরসভার কাজ পরিচালনা করবেন। 
এদিকে, শুক্রবার মাথাভাঙা পুরসভার চেয়ারম্যান লক্ষপতি প্রামাণিককে সারা দিন অফিসে দেখা যায়নি। সকালে নিজের ওয়ার্ডে নিকাশি নালা সাফাইয়ের কাজ করা শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেন। পরে পদত্যাগ করেন। লক্ষপতিবাবু বলেন, দলীয় নির্দেশ মেনে পদত্যাগপত্র ভাইস চেয়ারম্যানকে দিয়েছি। এনিয়ে আমার আর কিছু বলার নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ