সংবাদদাতা, হলদিয়া: সেফটি উইক বা নিরাপত্তা সচেতনতা সপ্তাহেই হলদিয়ায় পথ দুর্ঘটনার বলি হয়েছেন ৫ জন। এদের মধ্যে তিনজনই বেপরোয়া বাইকের শিকার। বাকি দু›জনের মৃত্যু হয়েছে ট্রাকের ধাক্কায়। সচেতনতা সপ্তাহে পথ দুর্ঘটনায় পর পর মৃত্যু বন্দর শহরে ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আরও একটি পরিসংখ্যান চমকে দেওয়ার মতো। গত একমাসে হলদিয়া এবং লাগোয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় সব মিলিয়ে ১৪ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া রাজ্য ও জাতীয় সড়কে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছে প্রায় ২০ জন। মৃত এবং জখমদের মধ্যে সিংহভাগই তরুণ। মূলত বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে। একাধিক ক্ষেত্রে দু›টি দ্রুতগতির বাইকের সংঘর্ষে দুর্ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে জাতীয় বা রাজ্য সড়কে বাইক আরোহীকে ধাক্কা মেরেছে বেপরোয়া ট্রাক বা ট্যাঙ্কার। ওই তরুণদের একাংশ কারখানার শ্রমিক কর্মচারী বা কর্মসূত্রে হলদিয়া যাতায়াত করেন। হলদিয়ার বিভিন্ন সড়কে বাইক দুর্ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন পুলিসও। হলদিয়ার এসডিপিও অরিন্দম অধিকারী বলেন, হলদিয়ায় রোড ট্রাফিক আইন মেনে না চলার প্রবণতা দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে। এনিয়ে সকলেই উদ্বিগ্ন।
পরিসংখ্যান বলছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে হলদিয়া, ভবানীপুর ও সুতাহাটা থানা এলাকায়। ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক, হলদিয়া-মেচেদা রাজ্য সড়কেই দুর্ঘটনার হার বেশি। এছাড়া হলদিয়া এইচপিএল লিঙ্ক রোড, বালুঘাটা চৈতন্যপুর সড়ক এবং সিটি সেন্টার থেকে বিসি রায় হাসপাতাল রোড বাইক আরোহী, সাইকেল আরোহী এবং পথচারীদের কাছে আতঙ্কের হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি সেন্টার থেকে বিসি রায় হাসপাতাল রোড এখন স্পিড বাইকিং জোন হয়ে উঠেছে। হলদিয়া এবং ভবানীপুর থানার পুলিসের নাকের ডগায় একদল স্পিড বাইকিং করে। কয়েকদিন আগেই স্পিড বাইকিংয়ের বলি হয়েছেন সন্ধ্যা মণ্ডল (৫৭) নামে প্রৌঢ়া। তিনি ও তাঁর মেয়ে ইসকন মন্দিরে যাওয়ার জন্য টোটো ধরতে রাস্তার পাশে অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময় দুর্ঘটনা ঘটে। মা ও মেয়ে দু›জনেই জখম হয়েছিলেন। চকদ্বীপা হাইস্কুলের কাছে বালুঘাটা রোডে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে স্পিড বাইকিংয়ের কারণে। সপ্তাহ দুই আগেই কুঁকড়াহাটিতে ট্রাকের ধাক্কায় ডান হাত খুইয়েছে ক্লাস এইটের ছাত্রী মৌসুমী মিস্ত্রি। সেফটি উইক বা সেফ ড্রাইভ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য সচেতনতা বাড়িয়ে পথ দুর্ঘটনা কমানো। কিন্তু বছরের শুরুতেই এভাবে দুর্ঘটনার সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন ট্রাফিক বিভাগ।
ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে মার্চের গোড়া অবধি হলদিয়ার চারটি থানা এলাকায় ১৪ জনের বেশি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। এরমধ্যে বন্দরের মধ্যে কর্মরত এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে ডাম্পারের ধাক্কায়। বন্দরের সেফটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগকেও ওই মৃত্যু প্রশ্নের মুখ ফেলেছে। মূলত দ্রুতগামী গাড়ি বা বাইকের ধাক্কাতেই দুর্ঘটনা ঘটছে। ট্রাফিক বিভাগের সাফাই, ট্রাফিক সিগন্যাল যেখানে থাকছে সেখানে দুর্ঘটনা ঘটে না। সিগন্যাল পেরিয়ে নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ি চালাতে গিয়েই ঘটছে বিপত্তি। গাড়িগুলিকে ফাইন করার পরও হলদিয়ায় দুর্ঘটনা আটকাতে না পেরে পুলিস খুবই হতাশ। কীভাবে দুর্ঘটনা এড়ানো যায় তার পথ খুঁজছে পুলিস। কখনও ফুটপাতে গাড়ি উঠে গিয়ে ধাক্কা মারছে, কখনও রাস্তা পারাপারের সময় পথচারীর মৃত্যু হচ্ছে। এক্ষেত্রে হলদিয়ায় বড় সমস্যা ফুটপাত দখল হওয়া।
ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় রাস্তার উপর দিয়ে হাঁটতে গিয়েই ঘটছে বিপত্তি। ট্রাফিক পুলিস অফিসার রানা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ফুটপাত দখল, জাতীয় সড়কের কাটিং বা ঢালু রাস্তা থেকে ওঠার মুখেই দুর্ঘটনায় পড়ছেন বাইক আরোহীরা। এনিয়ে সেফটি কমিটির বৈঠকে গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। হলদিয়ার এইচপিএল লিঙ্ক রোডে ফুটপাতের দখল নিয়েছে ট্রাক, ট্যাঙ্কার।-নিজস্ব চিত্র