নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: চুলবোঝাই ট্রাক হাইজ্যাকের ঘটনায় চক্রের মূল পাণ্ডা সহ আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করল নাকাশিপাড়া থানার পুলিস। মুর্শিদাবাদ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম রনি শেখ এবং কামালউদ্দিন শেখ। এরা দু’জন মিলেই চুলবোঝাই ট্রাক হাইজ্যাকের পরিকল্পনা করেছিল। সোমবার রাতেই তাদের ধরা হয়। মঙ্গলবার ধৃতদের কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হলে বিচারক তিনদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। মূলত পরিবহণ ব্যবসার দখল নিতেই এই লুটের ছক কষা হয়েছিল। যদিও লুট হওয়া ১৫০০ কিলো চুল উদ্ধার করা যায়নি। যার বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা। তার খোঁজেই তল্লাশি চলাচ্ছে পুলিস। ওই চুলবোঝাই ট্রাকটি হাইজ্যাকের জন্য একটি দুষ্কৃতী দলকে লক্ষাধিক টাকায় সুপারি দিয়েছিল তারা। এখনো পর্যন্ত এই লুটের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে নাকাশিপাড়া থানার পুলিস। রবিবার রাতেই গ্রেপ্তার হয়েছিল চাইরুদ্দিন শেখ, হাসিবুল শেখ এবং সিভিক ভলান্টিয়ার মোসারফ হালসানা।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার(গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ বলেন, ট্রাক হাইজ্যাকের ঘটনায় আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের পুলিসি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে লুট হওয়া চুলের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রনি ও কামাল উদ্দিন এই লুটের পরিকল্পনা করেছিল। কামাল উদ্দিনের ট্রান্সপোর্টের ব্যবসা রয়েছে। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে বেলডাঙায় ট্রান্সপোর্টের ব্যবসা কব্জা করতে পারছিল না সে। অন্যদিকে রনির ১০ লক্ষ টাকা দেনা ছিল। সেই টাকা সে শোধ করতে পারছিল না। তাই লুটের সামগ্রী বিক্রি করে রনিকে ১০ লক্ষ টাকা দিত কামাল। এছাড়া চাইরুদ্দিন, হাসিবুল এবং মোসারফকে এক লক্ষ টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার এক বাসিন্দার ট্রান্সপোর্টের ব্যবসা রয়েছে। তাঁর ট্রাক প্রতিদিন বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে নদীয়া জেলা হয়ে মুর্শিদাবাদে যায়। একচেটিয়া দাপট থাকায় কামাল ওই ট্রান্সপোর্টের ব্যবসার দখল নিতে পারছিল না। সেজন্যই এই লুটের ছক কষে।
কামাল জানতে পারে এক কোটি টাকার চুল হাওড়া থেকে বেলডাঙায় আসছে। কারণ ওই চুল লুট হয়ে গেলে হাওড়ার ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীকে এক কোটি টাকা মেটাতে হবে। এই বিপুল টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হলে হাওড়ার ওই ব্যবসায়ী নদীয়া-মুর্শিদাবাদ লাইনে পরিবহণের ব্যবসা বন্ধ করে দেবে। আর সেই সুযোগে কামাল ওই বাজার কব্জা করবে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার রাত ৯টার সময় একটি ট্রাক হাওড়া স্টেশন থেকে রওনা হয়। ওই ট্রাকে ছিল প্রায় ২৯ বস্তা চুল, প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি করে চুল ছিল। ট্রাকের মালিক গুলেস বিন্দ জানান, ওই ট্রাকের চালক সঞ্জীব মাহাতর ফোন রবিবার ভোর থেকেই সুইচ অফ ছিল। রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ গুলেসবাবুকে ওই ট্রাকের চালক ফোন করে ট্রাক হাইজ্যাকের কথা জানায়। রবিবার ভোরেই চুলবোঝাই ট্রাকটি দুষ্কৃতীরা হাইজ্যাক করে। ওই ট্রাকে জিপিএস ট্র্যাকার লাগানো ছিল। তাতে দেখা যায়, নাকাশিপাড়া ও ধুবুলিয়া থানা এলাকা মাঝে ঘোলাডাঙা এলাকায় ট্রাকটি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়েছিল। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পারে, সেখানেই ট্রাক থেকে ২৯ বস্তা চুল অন্য একটি গাড়িতে তোলা হয়। পরে ওই চুলের বস্তাগুলি সিভিক ভলান্টিয়ার মোশারফের গোডাউনে রাখা হয়েছিল। পুলিস রবিবার রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।