Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হু হু করে কমছে মহদিপুর দিয়ে বাংলাদেশে রপ্তানি

হু হু করে কমছে মহদিপুর দিয়ে বাংলাদেশে রপ্তানি
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মালদহ: বাংলাদেশে অস্থিরতার পাশাপাশি কিছু অর্থনৈতিক সমস্যা প্রভাবিত করছে ভারত থেকে পণ্য রপ্তানি ব্যবস্থাকে। মালদহের মহদিপুর স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে রপ্তানির পরিমাণ গত তিনদিনে প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। ফলে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন যেমন খানিকটা কমেছে,বাংলাদেশে কিছু পণ্যের আচমকা অভাব তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে মালদহের বণিক মহল। 
Advertisement
সাধারণ সময়ে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মহদিপুর স্থলবন্দরে সার সার পণ্যবাহী লরি অপেক্ষা করে থাকে বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য। কিন্তু মহদিপুরে এখন চোখে পড়ার মতো কমেছে সেই সংখ্যা। 
শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতে গড়ে ৪০০টি লরি মহদিপুর স্থলবন্দর থেকে বাংলাদেশের সোনা মসজিদ ও পানামা পোর্টে যায়। মহদিপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, কয়েক মাস ধরে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ গাড়ি পাথরকুচি, আনাজ, ফল, গবাদি পশুর খাবার রপ্তানি হচ্ছিল। একদিনে প্রায় ২৬ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয় এই বন্দর দিয়ে। কিন্তু গত কয়েকদিনে লরির সংখ্যা কার্যত অর্ধেক। এখন প্রতিদিন মাত্র ১২ থেকে ১৩ কোটি টাকার পণ্য যাচ্ছে। আচমকা বাণিজ্যে ভাটা প্রসঙ্গে মহদিপুর ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চলে এলওসি’র (লেটার অব ক্রেডিট) ভিত্তিতে। একজন আমদানিকারক যে মূল্যের পণ্য ভারত থেকে কেনেন, সেই অর্থ ডলারের হিসেবে জমা রাখেন বাংলাদেশের ব্যাঙ্কে। পরিবর্তে বাংলাদেশের ব্যাঙ্ক ওই আমদানিকারককে এলওসি দিয়ে থাকে। এলওসি হাতে পেয়ে পণ্য সরবরাহের পর ভারতীয় রপ্তানিকারকরা এক সপ্তাহের মধ্যে অর্থ পেয়ে থাকেন।
কিন্তু এখন আমদানি করা পণ্যমূল্যের মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যাঙ্কে জমা রাখলেই উপদেষ্টা সরকারের আমলে এলওসি হাতে পাচ্ছেন আমদানিকারকরা। ভারতীয় পণ্য হাতে পাওয়ার পরে তাঁরা বাকি টাকা ব্যাঙ্কে জমা দিচ্ছেন। ফলে রপ্তানিকারকদের টাকা পেতে তিন সপ্তাহ থেকে একমাস পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। বিপুল টাকা আটকে থাকছে অনেক বেশি দিন। মহদিপুরের প্রবীণ ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট বললেন, এই সমস্যার ফলে অনেক রপ্তানিকারক পরের ট্রিপের পণ্য নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশে পাঠাতে পারছেন না। অনিয়মিত হয়ে পড়ছে বাণিজ্য। আমরা জানতে পেরেছি বাংলাদেশের ডলারের ভাণ্ডার পর্যাপ্ত নয়। তাছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাবও পড়েছে বাণিজ্যে। মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জয়ন্ত কুণ্ডু বলেন, যে কোনও পরিস্থিতিতে দু’দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য স্বাভাবিক থাকবে, সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু তা হচ্ছে না। এতে আমাদের দিক থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন খানিকটা কমছে। বাংলাদেশেও কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্কট তৈরি হওয়ারও সম্ভাবনা থাকছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ