সংবাদদাতা, কাটোয়া: বর্ষায় অজয়, কুনুর নদে জল বাড়লেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষি জমি থেকে বসত ভিটে। বর্ষা এলেই আউশগ্রাম, গুসকরা, মঙ্গলকোটের নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের চিন্তা বাড়ে। কোথাও বাঁধের গায়ে ছোট গর্ত দিয়ে জল ঢোকে। আবার কোথাও বাঁধের মাটিতে ধস নামে। তাই বর্ষা আসতেই ‘ক্যুইক রেসপন্স টিম’ গড়ল গুসকরা সেচদপ্তর। অজয়, কুনুরের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ২৪ঘণ্টাতেই বাসিন্দারা সরকারি কর্মী বা জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে টিমকে ডাকতে পারবেন।
সেচদপ্তরের গুসকরা ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সামসুল হক বলেন, বর্ষায় নদীতে জল বাড়লে বাঁধের গায়ে ধাক্কা খায়। প্লাবন হলেই এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এবার তাই আমরা বাঁধ রক্ষা করতে ক্যুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছি। তবে এখন থেকেই আমরা প্রাক্-বর্ষায় অজয় নদের বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করে দিয়েছি।
পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম, মঙ্গলকোটের বিস্তীর্ণ এলাকা দিয়ে অজয় নদ কাটোয়ার শাঁখাই ঘাটের কাছে ভাগীরথীতে মিশেছে। পাশাপাশি, পশ্চিম বর্ধমানের উখড়ার কাছে কুনুরের উৎপত্তি হয়েছে। তারপর কাঁকসা, লাউদোহা, আউশগ্রাম, গুসকরা হয়ে মঙ্গলকোটে প্রবেশ করছে। ব্লকের সারঙ্গপুর গ্রাম দিয়ে ঢুকে কোগ্রামে অজয়ের সঙ্গে মিশছে। এই নদী আয়তনে ছোট। নাব্যতা কমে যাওয়ায় এর জল ধারণ ক্ষমতাও অনেক কম। তাই নদীর জল সংকীর্ণ জায়গার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পাড়ে ধাক্কা খায়। তাতেই ভাঙন হয় বলে জানান স্থানীয়রা। সেচদপ্তরের গুসকরা ডিভিশনের আওতায় পড়ছে আউশগ্রামের পুরুচা থেকে মঙ্গলকোটের নতুনহাট পর্যন্ত অজয় নদের ৩৫কিলোমিটার অংশ। ক্যুইক রেসপন্স টিমে মোট ১৬জন সদস্য থাকছেন। তারমধ্যে থাকছেন সেচদপ্তরের গুসকরা ডিভিশনের অধীনস্থ ব্লকগুলির জয়েন্ট বিডিওরাও। প্রতিটি ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদের কাছে টিমের ফোন নম্বর দেওয়া থাকছে। দিনে বা রাতে যেকোনও সময়ে ফোন করলেই বাঁধ রক্ষা করবে সেচদপ্তর।
সম্প্রতি পুরো অজয়ের গতিপথ পরিদর্শন করেছেন সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার ও সংশ্লিষ্ট ব্লকের অফিসাররা। অজয়ের বাঁধে বেশ কয়েক জায়গায় কিছু ছোটখাট ত্রুটি ধরা পড়ে। আউশগ্রাম-২ব্লকের পুরনো ফেরিঘাট, বুধরা, সাঁতলা এলাকায় মাটি ধসে যেতে দেখা যায়। পাশাপাশি, মঙ্গলকোটের লাখুরিয়া অঞ্চলেও বেশ কয়েক জায়গায় ত্রুটি দেখতে পান তাঁরা। এইসব জায়গায় শাল বল্লা ও পলিব্যাগ দিয়ে প্রাক্-বর্ষার পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আউশগ্রাম-২ব্লকের দেকুড়ি, রামনগর, মালিয়াড়া, মালোচা, গোপালপুর, বনকুল, হরিনাথপুর, নৃসিংহপুর, পল্লিশ্রী, নপাড়া, পাথরকুচি ইত্যাদি গ্রাম অজয়ের তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত। এগুলি ভাঙন প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। গ্রামগুলি ২০০০, ২০০২ ও ২০২১ সালে অজয়ের জলে প্লাবিত হয়েছিল। এছাড়াও, ২০২১ সালে বন্যায় সাঁতলা গ্রামের বাঁধ ভেঙেছিল। ভেসে গিয়েছিল একের পর এক গ্রাম। ভেদিয়া অঞ্চলের সাঁতলা, ধুকুর, বুধরা প্রভৃতি গ্রামগুলি অজয়ের ধারে অবস্থিত। ওইসব এলাকায় আগে বাঁধে ফাটল দেখা গিয়েছিল। তাই এইসব এলাকায় প্রায় ৪০লক্ষ টাকা খরচ করে পাইলিংয়ের কাজ করা হচ্ছে।
কুনুরের জন্য গুসকরা শহরের বাসিন্দাদের চিন্তা বেড়ে যায়। ভারী বৃষ্টিপাতেই কুনুরের জল ছাপিয়ে যায়। গত বছর দু’বার শহরকে প্লাবিত করেছিল কুনুর। নদী ক্রমশ সরু হয়ে পড়ছে। জলের চাপ বাড়লেই কুনুর নদীর দু’পারের মাটি ধসে ভাঙন হচ্ছে। কুনুর তীরবর্তী এলাকাতেও সংস্কার করা হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র