নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও সংবাদদাতা, মানকর: বুদবুদ থানা এলাকায় সেচনালা থেকে যুবকের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় উঠে এল হাড়হিম করা কাহিনি। মৃত গৌতম বাগদিকে খুনের ঘটনায় পুলিশ বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করে প্রহ্লাদ রুইদাস সহ চার অভিযুক্তকে। প্রহ্লাদ ও গৌতমের মধ্যে ছিল গুরু-শিষ্য সম্পর্ক। গৌতমই হাতে ধরে কাজ শিখিয়েছিলেন প্রহ্লাদকে। পুলিশ জেরা করে জানতে পেরেছে, শিষ্য প্রহ্লাদই প্রাণ নিয়েছে গৌতমের। তাও একেবারে পরিকল্পনা করে। গুরুকে আকণ্ঠ মদ্যপান করিয়ে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে খুন করে সে। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে প্রহ্লাদ নিজের মোবাইলের বহু তথ্য মুছে ফেলে। নিজের ফোনের লোকেশনও অফ করে দিয়ে ভেবেছিল পুলিশকে বিভ্রান্ত করবে। পুলিশ আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে খুনের সময়ে তাঁর উপস্থিতি নিশ্চিত করে নিয়েছে। এখন দু’টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মরিয়া পুলিশ। এক, প্রহ্লাদ একাই গৌতমকে খুন করেছে, নাকি তাকে কেউ সাহায্য করেছিল? দুই, সর্বক্ষণ গুরুর নামে প্রশংসা করা প্রহ্লাদ কেন খুন করল গৌতমকে? পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অবশ্য উঠে আসছে বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্কে টানাপোড়েনের তত্ত্ব। গৌতমের ছায়া সঙ্গী প্রহ্লাদ জানতে পারে, বিবাহিত গুরু তাঁরই এক নিকট আত্মীয়ার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে। এরপরই গৌতমকে খুনের ছক কষে প্রহ্লাদ। এসিপি (কাঁকসা) রাজকুমার মালাকার বলেন, ‘আমরা পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।’
পুলিশ জানতে পেরেছে, গৌতম ছিল সরল মনের মানুষ। তিনি নিজে রান্নার গ্যাস বাড়ি বাড়ি বিতরণের কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। তাঁর সংস্থাতেই কাজে ঢুকিয়ে প্রহ্লাদকে গাড়ি চালানো শেখানো সহ সব কাজ শিখিয়েছেন। তাঁর শিষ্য প্রহ্লাদ যখন গৌতমকে মদ খাওয়ার কথা বলে তিনি কোনও সন্দেহ করেননি। দু’জনেরই বাড়ি বুদবুদ থানার চাকতেঁতুল গ্রামে। অদূরেই রণডিহার কাছে দামোদর পাড়ে গুরু-শিষ্য মদ খেতে যায়। তাঁদের সঙ্গ দেয় প্রহ্লাদের তিন পরিচিত। তারপরেই নিখোঁজ হয়ে যান গৌতম। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগও করা হয়। রবিবার এলাকার একটি ক্যানালের জলে গৌতমের দেহ ভেসে ওঠে। প্রহ্লাদ সহ চারজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ করে প্রহ্লাদের পরিবার। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। শেষে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে
টানা জেরা করে। তাতেই পর্দা ফাঁস। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকেও পুলিশ জানতে পেরেছে গলাটিপে শ্বাস রোধ করেই গৌতমকে খুন করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, মদের আসরে প্রথমে গৌতম সহ পাঁচজন থাকলেও সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর বাকি তিনজন চলে যায়। তখন মদ্যপান করছিল প্রহ্লাদ ও গৌতম। তারপরই হত্যা করা হয় বলে অনুমান। পুলিশ প্রহ্লাদের মোবাইল খতিয়ে দেখে জানতে পেরেছে সেই সময় তাঁর ফোনের লোকেশন অফ করে দিয়েছিল প্রহ্লাদ। ফোনটি ফ্লাইট মোডে নিয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীকালে সেই সময়ে যে সব মিস কল অ্যালার্ট এসেছিল, তা সে ফোন থেকে ডিলিট করে দেয়। এত চেষ্টার পরও পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনাস্থলে তার ফোনের অবস্থান নিশ্চিত করে ফেলেছে। খুব সম্ভবত মদ্যপানের জায়গাতেই গৌতমকে খুন করে দেহ ক্যানালে ফেলে দেওয়া হয়।