সংবাদদাতা, তেহট্ট: গত কয়েক বছরে পলাশীপাড়া থানার পলসণ্ডা, কোমথানা, বড়েয়া, বারুইপাড়া, কুলগাছি সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রথাগত চাষের পরিবর্তে পেয়ারা চাষ করে লাভের মুখ দেখেছেন চাষিরা। বর্তমানে প্রায় ৫০০০ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষ হচ্ছে। চাষ বাড়াতে তৈরি হয়েছে পেয়ারা উন্নয়ন সমিতি। এই চাষে ভালোই লাভ হচ্ছে। উন্নতি হচ্ছে স্থানীয় মানুষের জীবন যাত্রার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সব গ্রাম আগে এত উন্নত ছিল না। বছর ১২ আগে এখানকার অধিকাংশ মানুষ চাষে লাভ না পেয়ে ভিনরাজ্যে চলে যেত কাজের সন্ধানে। সেখানে দিন মজুরি করে যে টাকা আয় করতেন, সেই টাকায় তাঁরা সংসার চালাতেন। পরে কয়েকজন ভিনরাজ্য থেকে এসে প্রথাগত চাষের বদলে পেয়ারা চাষ করতে শুরু করেন। তাঁরা পেয়ারা চাষ করে লাভের মুখ দেখেন। এই লাভজনক পেয়ারা চাষের কথা শুনে এলাকার বেশিরভাগ মানুষ ঘরে ফিরে আসে। এখন আর কাজের খোঁজে ওই সব গ্রামের মানুষ ভিনরাজ্যে যায় না। এখন এই সব গ্রাম থেকে পেয়ারা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যায়। এমনকী, ত্রিপুরা, মেঘালয়, অসম সহ বিভিন্ন রাজ্যেও যায়। শুধু এই পেয়ারা চাষ করে গ্রামের মানুষ স্বনির্ভর হয়নি, এই পেয়ারা বিক্রি করেও এলাকার বহু বেকার স্বনির্ভর হয়েছে। এলাকার পেয়ারা চাষি আকবর, হাসিম মণ্ডল বলেন, আমাদের এলাকার পাট ছিল প্রধান অর্থকরী ফসল। পাট চাষ করে কেউ লাভের মুখ দেখতে পেতেন না। তাই সেই ক্ষতি পোষাতে এলাকার মানুষকে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যেতে হতো। কয়েকজন চাষি গ্রামে প্রথম পেয়ারা চাষ শুরু করেন। তাঁরা এই চাষে লাভ করলে অন্যরাও এই চাষ করতে উৎসাহী হয়। বর্তমানে গ্রামে উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত পেয়ারা চাষ হচ্ছে। এর ফলে আমরা এখন লাভের মুখ দেখেছি ও আর্থিক স্বচ্ছলতা পেয়েছি। গ্রামের বেশ কয়েকজন বেকার যুবক এই পেয়ারা রপ্তানি করে আয় করেন।
তাঁদের একজন বলেন, পেয়ারা চাষ এলাকার যেমন চেহারা পাল্টে দিয়েছে তেমন আমাদের বেকার তকমাও মুছে দিয়েছে। তাঁরা বলেন, আমরা এক সময় হতাশ হয়ে ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজে চলে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে এই পেয়ারা চাষের কথা শুনে গ্রামে ফিরে আসি। তারপর জমির মালিকদের সঙ্গে পেয়ারা কিনে আমরা এলাকার যুবকরা তা ভিনরাজ্যে রপ্তানি করি। এতে আমাদের যেমন কর্মসংস্থান হয়েছে, তেমন পেয়ারা চাষিরা লাভের মুখ দেখেছেন। পেয়ারা চাষে বিঘা প্রতি খরচ হয় ১২ হাজার টাকা। আর ঠিকমতো পেয়ারা হলে তা বিক্রি হয় বিঘা প্রতি ৪০ হাজার টাকায়। সেই কারণেই এলাকার অনেক চাষি প্রথাগত চাষ ছেড়ে পেয়ারা চাষ শুরু করেছেন।