সংবাদদাতা, ডোমকল: গত বছর আকাশ ছুঁয়েছিল রসুনের দাম। মহার্ঘ রসুন বাঁচাতে রীতিমতো মাঠ পাহারা দিতে হয়েছিল কৃষকদের। মাত্র এক সিজনেই রসুনের বাড়তি দামের কারণে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গিয়েছিল কারবারিদের। এবারও বাড়তি দাম পাওয়ার আশায় ডোমকল মহকুমার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা ঝুঁকেছেন রসুন চাষে। বেশ কয়েকটি এলাকার মাঠে রীতিমতো রসুন চাষের ধুম লেগে গিয়েছে। ধান কেটে নেওয়ার পর অনেকেই সেই জমিতে রসুন রোপণ করছেন। তবে রসুনের দিকে ঝুঁকলেও ডোমকল মহকুমায় ভাটা পড়েনি গম চাষে। প্রতি বছরের মতো এবারও ডোমকল মহকুমার মাঠগুলিতে গম বোনায় ব্যস্ততা দেখা দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, মশলা ফসল ও ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় সারা বছরই রসুনের চাহিদা থাকে। চাহিদা থাকলেও মুর্শিদাবাদে রসুনের চাষ তুলনামূলক কম হয়। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর মুর্শিদাবাদে প্রায় ১৭৭ হেক্টর জমিতে রসুনের চাষ হয়েছিল, যা মোট চাহিদার থেকে অনেক কম। পাশাপাশি গতবছর জোগান কম থাকায় রসুনের দামও ব্যাপকভাবে বেড়েছিল। গতবছর জমির কাঁচা রসুনই কুইন্টাল প্রতি প্রায় ৭০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর শুকনো অবস্থায় ওই দাম উঠেছিল কুড়ি হাজারে। তাই এবছর অনেকেই ধান কেটে রসুন রোপণ করতে শুরু করে দিয়েছেন। ডোমকল মহকুমার সবক’টি ব্লকের বিভিন্ন মাঠে গমের পাশপাশি রসুন চাষে উৎসাহ দেখাচ্ছেন কৃষকরা। সাগরপাড়া ও রানিনগরের মাঠগুলিতেও প্রতি বছরের থেকে এবারে কৃষকদের রসুন চাষ করতে বেশি পরিমাণে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। রানিনগরের চাষি মিঠু শেখ বলেন, গত বছর ভালোই দাম ছিল রসুনের। তবে সেবার মাঠে রসুনের চাষ হয়নি। এবার আমাদের তেজসিংহপুরের মাঠের চাষিরা ব্যাপকভাবে রসুনের চাষ করছেন। কারও দু’বিঘা জমি যদি থাকে, তাহলে দুই বিঘাতেই রসুন চাষ করছেন। কৃষিদপ্তরের এক কর্তা বলেন, গতবার ভালো দাম মেলায় এবছর রসুন চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। সাধারণত আমাদের জেলায় চাহিদার থেকে অনেক কম রসুন চাষ করা হয়। তবে রসুনের পাশাপাশি গম চাষেও কৃষকদের আগ্রহ রয়েছে।



