Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গত ৬ মাসে মোবাইল টাওয়ার থেকে ৩৫০ ব্যাটারি চুরি, চাঞ্চল্য 

গত ৬ মাসে মোবাইল টাওয়ার থেকে ৩৫০ ব্যাটারি চুরি, চাঞ্চল্য 
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: চোরেদের নজর পড়েছে মোবাইল কোম্পানির টাওয়ারের ব্যাটারিতে। এক একটি টাওয়ার থেকে ব্যাটারি চুরি করলেই লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন। তাই গৃহস্থের বাড়িতে চুরির ঝামেলায় না গিয়ে রাস্তার ধারে কিংবা ফাঁকা জায়গায় থাকা টাওয়ারের ব্যাটারি চুরিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে দুষ্কৃতীরা। সেখানে কোনও নিরাপত্তারক্ষী না থাকায় বাড়তি সুবিধা হচ্ছে চোরদের। গত একবছরে মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে ৩৫০টির বেশি মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরি হয়েছে। গত ছ’মাসেই চুরি যাওয়া ব্যাটারির দাম প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। বহরমপুর, বেলডাঙা, রেজিনগর, হরিহরপাড়া, নবগ্রাম, খড়গ্রাম, শক্তিপুর, সাগরদিঘি ও মুর্শিদাবাদ থানা এলাকায় মাঝে মধ্যেই এই ব্যাটারি চুরির অভিযোগ জমা পড়েছে। কিন্তু কোনও সুরাহা হচ্ছে না বলেই অভিযোগ। মোবাইলের টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির ঘটনায় নাজেহাল টাওয়ার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা। 
Advertisement
১ নভেম্বর শক্তিপুরের বাজারসৌ এলাকায় একটি মোবাইলের টাওয়ার থেকে ২৪টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে। দু’দিন আগে ৩০ অক্টোবর বড়ঞা থানা এলাকার একটি টাওয়ার থেকে ২৪টি ব্যাটারি চুরি হয়। গত ২২ অক্টোবর সাগরদিঘির সমসাবাদ থেকেও ২৪টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর বড়ঞা থানা এলাকার একটি টাওয়ার থেকে আবারও ২৪টি ব্যাটারি চুরি হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর মুর্শিদাবাদ থানার একটি টাওয়ার থেকে চুরি যায় ব্যাটারি। তার ঠিক একদিন আগে ২২ সেপ্টেম্বর শক্তিপুরের বাজারসৌ এলাকার একই মোবাইল টাওয়ার থেকে আবার ব্যাটারি চুরি হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর খড়গ্রাম থেকে মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরি করে দুষ্কৃতীরা। ৩০ আগস্ট মুর্শিদাবাদ থানার রামকৃষ্ণপুর এলাকার একটি মোবাইল টাওয়ার থেকে ৪০টি ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটে। ২৭মে এবং ২২ জুলাই নবগ্রামের একটি টাওয়ার থেকে পরপর দু’বার মোট ৪৮টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে। এই তালিকা আরও দীর্ঘ। যা নিয়ে মোবাইল টাওয়ারের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি সংস্থার ইনচার্জ আব্দুল আলিম বিশ্বাস বলেন, গোটা জেলাজুড়ে টাওয়ারের ব্যাটারি চুরি হচ্ছে। এবছরের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত প্রচুর ব্যাটারি চুরি গিয়েছে। গত সপ্তাহেও জেলা পুলিস সুপারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়ে পদক্ষেপ করার জন্য অনুরোধ করেছি। 
তিনি আরও বলেন, এই ব্যাটারি চুরি হয়ে গেলে মোবাইলের নেটওয়ার্ক সমস্যা হচ্ছে। এর ফলে ফোনকল এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যা হয়। এক একটি ব্যাটারি ইউনিটের লক্ষাধিক টাকা দাম। চোর চুরি করে সেগুলি বিভিন্ন উপায়ে বিক্রি করে দেয়। আর মোবাইল টাওয়ার কোম্পানির বড় ক্ষতি হচ্ছে। গত দু’বছর এই চুরি বন্ধ ছিল। আবার চুরি শুরু হয়েছে। এই চুরি আটকাতে না পারলে আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। 
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, বিভিন্ন থানায় মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির অভিযোগ জমা পড়েছে। আমরা তদন্ত করে মাঝেমধ্যেই চোর এবং ব্যাটারি উদ্ধার করেছি। ফের বেশ কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে। আমরা তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব। সাধারণত নেশায় আসক্তরা টাকার জন্য এই কাজ করে। আমরা সব অভিযোগ খতিয়ে দেখছি।
সম্পর্কিত সংবাদ