Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের রাহুগ্রাসে হলদিয়ায় বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের রাহুগ্রাসে হলদিয়ায় বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, হলদিয়া: গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের রাহুগ্রাসে হলদিয়া শিল্পাঞ্চল ও লাগোয়া গ্রামাঞ্চলে বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান। বিধায়ক গোষ্ঠী বনাম বিধায়ক বিরোধী গোষ্ঠীর অন্তর্দ্বন্দ্বে সদস্য সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছে পৌঁছবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। সদস্য সংগ্রহ অভিযান নিয়ে শিল্পশহরে কোনও উৎসাহ নেই, মানছেন বিজেপির শহর মণ্ডলের নেতারাই। হলদিয়া পুরসভার ২৯টি ওয়ার্ডে সদস্য সংগ্রহের জন্য বাড়ি বাড়ি অভিযান করতে গিয়ে সক্রিয় কর্মীর অভাবে বিজেপিকে ভুগতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। শুধু পুর এলাকা নয়, লাগোয়া হলদিয়া, সুতাহাটা, মহিষাদল ব্লকেও একই অবস্থা। বুথ, মণ্ডল থেকে জেলাস্তর পর্যন্ত কার্যকর্তা রদবদলের জল্পনায় সদস্য সংগ্রহ অভিযানে একধরনের অনীহা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপির পর্যবেক্ষণ, নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে তৎপরতা না থাকায় হলদিয়ায় ব্যাহত হচ্ছে সদস্য সংগ্রহ অভিযান। হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল একই সঙ্গে বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতিও। ফলে খোদ জেলা সভাপতির এলাকায় বিজেপি সদস্য সংগ্রহ অভিযানে পিছিয়ে পড়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে দলের অন্দরে। শেষবেলায় লক্ষ্যপূরণের জন্য কেউ যাতে জল না মেশায়, তার জন্য দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
Advertisement
দলবদলু বিধায়ক তাপসী মণ্ডলকে নিয়ে হলদিয়ায় বিজেপির অন্দরে আদি-নব্যর লড়াই যে কোনও ইস্যুতেই প্রকট হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, ওই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রভাব বিধানসভা বা লোকসভা ভোটে না পড়লেও সাংগঠনিক ক্ষেত্রে যে কোনও ইস্যুতে তার প্রভাব পড়ে। হলদিয়ায় বিজেপির জয়ে নেগেটিভ ভোটিং বড় ফ্যাক্টর। কিন্তু সংগঠনের প্রশ্নে মানুষ দলকে ঐক্যবদ্ধ দেখতে চায়। সদস্য সংগ্রহ  করতে গিয়ে বিজেপি হলদিয়ায় কর্মীই খুঁজে পাচ্ছে না। তাছাড়া শিল্পাঞ্চলে কাজ হারানোর ভয়ে সিংহভাগ শ্রমিক কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার শাসকদলের রোষানলে পড়তে চায় না। ফলে শিল্পাঞ্চলে কার্যত নমো নমো করে চলছে বিজেপির অভিযান। তাছাড়া শিল্পশহরে বিজেপির মূল শক্তিকেন্দ্র দুর্গাচক টাউনে দলের ভাঙন নিয়েও রীতিমতো চাপে রয়েছে পদ্মশিবির। দুর্গাচক টাউনে ৪, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ নম্বর ওয়ার্ড সহ ৭-৮টি ওয়ার্ড বিজেপির ঘাঁটি বলে পরিচিত। ওই ওয়ার্ডগুলিতে এবার লোকসভা ভোটে বিজেপি ৬ হাজারের বেশি লিড পেয়েছে। অর্থাৎ পুরসভায় বিজেপির মোট লিডের ৪০ শতাংশের বেশি ওই এলাকা থেকেই এসেছে। দুর্গাচক টাউনে বিজেপির সংগঠনের মূল কারিগর ছিলেন এতদিন দয়াময় কুমার। মাসখানেক আগে বিজয়া সম্মিলনির সভায় তিনি তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় কার্যত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে বিজেপির সংগঠন। 
দয়াময় দলের মধ্যে বিধায়ক তাপসী মণ্ডল বিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এতদিন। দল ছাড়ার পর তিনি বলেন, বিজেপি বিধায়কের নেতৃত্ব তাঁর দলের সিংহভাগ কর্মী পছন্দ করছেন না, ফলে তাঁরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। এদিকে সাধারণ মানুষ তো দূরঅস্ত, বিজেপির নেতাকর্মীরাও তমলুকের নতুন বিজেপি সাংসদের দেখা পান না। ফলে হতাশা থেকে বিজেপি নেতাকর্মীরা অভিযানে শামিল হতে চাইছেন না। উল্টে বিজেপি ছাড়ছেন। শুধু শহর নয়, হলদিয়া ও মহিষাদলেও বিজেপিতে ভাঙন ধরেছে। বিজেপির এক জেলা নেতা বলেন, তাপসী হলদিয়ার বিধায়ক, তার ওপর জেলার সভাপতি, অথচ হলদিয়া শহর বা লাগোয়া গ্রামে বিজেপি কোনও কর্মসূচি নেই দীর্ঘদিন। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরে তমলুক সাংগঠনিক জেলাকে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৪ লক্ষ সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে। এরমধ্যে ২০ নভেম্বরের মধ্যে ২ লক্ষ সদস্য সংগ্রহ করতে হবে। এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। প্রত্যেক পঞ্চায়েত সদস্যকে ৩০০, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যকে ৫০০, জেলা পরিষদ সদস্যকে এক হাজার, বিধায়ককে ২ হাজার এবং সাংসদকে ৫ হাজার সদস্য করতে হবে বলে বিজেপির দলীয় নির্দেশ। বিধায়ক তাপসী মণ্ডল বলেন, সদস্য অভিযানের অনলাইন পদ্ধতি সবাই প্রথম বুঝতে পারেননি, তাই গতি কম ছিল। এখন কর্মীরা নামছেন। সদস্য অভিযান সংগ্রহে সক্রিয়তা ও পারফরমেন্স দেখে দলে আগামীদিনে রদবদল হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ