নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দূরপাল্লার ট্রেনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জিআরপির কর্মীদের ডিউটির সময় বডি ক্যামেরা পরা আবশ্যিক করল রেল পুলিশের শীর্ষকর্তারা। যাতে অপরাধীকে শনাক্ত করার সঙ্গে যাত্রীদের অভিযোগও ক্যামেরায় বন্দি থাকে। তার লাইভ কন্ট্রোল রুমে পৌঁছবে। পাশাপাশি সুরক্ষা কাজে ফাঁকি দিচ্ছেন কি না, ক্যামেরায় তা ধরা পড়ে যাবে। তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার লক্ষ্যেই এই ক্যামেরা চালু করা হয়েছে।
দূরপাল্লার ট্রেনে এতদিন রেল পুলিশের কর্মীরা লাঠি এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ডিউটি করতেন। বডি ক্যাম তাঁদের দেওয়া হত না। রেল পুলিশের কর্তাদের নজরে এসেছে, বিভিন্ন ট্রেনে চুরির ঘটনা প্রায়ই ঘটেছে। দুষ্কৃতীরা অপরাধের পর ট্রেনের কামরায় থেকে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর পর নেমে যাচ্ছে। যে সমস্ত পুলিশকর্মীকে দূরপাল্লার ট্রেনে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তাঁরা দুষ্কৃতীদের চেনেন না। যে কারণে তাঁদের সামনে দিয়ে অনায়াসে হেঁটে বেড়াচ্ছে অপরাধী। নাগালে পেয়েও ধরা যাচ্ছে না। রাজ্যের জিআরপি থানাগুলির কাছে অপরাধীদের ছবি ও তালিকা রয়েছে। সেই কারণে কর্তারা সিদ্ধান্ত নেন, দূরপাল্লার ট্রেনে যাঁরা সুরক্ষার দায়িত্বে থাকবেন সকলকে বডি ক্যামেরা দেওয়া হবে। এই ক্যামেরা অন করে ডিউটি করবেন পুলিশকর্মীরা। লাইভ ফিড পৌঁছাবে কন্ট্রোল রুমে। যাতে চলন্ত ট্রেনে অপরাধ দ্রুত পদক্ষেপ করতে পারে রেল পুলিশের থানা। অপরাধী পালানোর আগেই সমস্ত দিক থেকে ঘিরে ফেলা যায় এলাকা। পাশাপাশি চিহ্নিত অপরাধীদের ছবি ধরা পড়লে তাকেও গ্রেপ্তারের জন্য রেল পুলিশের থানা দ্রুত পদক্ষেপ করতে পারবে। এমনকি একই ট্রেনে অভিযুক্ত বারবার অপরাধ করছে কি না সেটাও ধরা পড়বে। রেল পুলিশ কর্তাদের নজরে এসেছে, ট্রেনে যাত্রীরা অভিযোগ তোলেন, পুলিশ টহল দিচ্ছে না। অপরাধ হচ্ছে দেখেও পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল। বডি ক্যামেরা পরে ডিউটি করল পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা এই ধরনের বদনাম ঘোচানো যাবে। অভিযোগ এলে কর্তারা দ্রুত ফুটেজ ঘেঁটে দেখে নিতে পারবেন কর্তব্যরত রেল পুলিশকর্মীর ভূমিকা কী ছিল। এর বাইরেও যাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করেন রেল পুলিশের কাছে। বডি ক্যামেরা থাকলে সমস্ত কিছুই রেকর্ড হয়ে থাকবে। যে কারণে অভিযোগের বাস্তবতা বিচার করতে সুবিধা হবে রেল পুলিশের আধিকারিকদের।