Bartaman Logo
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মমতা-ঋত দ্বন্দ্বে প্রতীক ফ্রিজ কমিশনের, উপনির্বাচনে দুই তৃণমূলকেই লড়তে হবে ‘ফ্রি সিম্বল’ নিয়ে

ফ্রিজ হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক। নির্বাচন কমিশন নির্দেশিকা জারি করে এমনটাই জানিয়েছে। প্রতীক কার?

মমতা-ঋত দ্বন্দ্বে প্রতীক ফ্রিজ কমিশনের, উপনির্বাচনে দুই তৃণমূলকেই লড়তে হবে ‘ফ্রি সিম্বল’ নিয়ে
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ফ্রিজ হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক। নির্বাচন কমিশন নির্দেশিকা জারি করে এমনটাই জানিয়েছে। প্রতীক কার? মমতা-ঋতব্রত দ্বন্দ্ব দিল্লির দরবারে গড়ানোর পর গত কয়েকদিন ধরে এই প্রশ্নই ঘুরছিল রাজনীতির আনাচে কানাচে। আগামী কাল, ১৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন। তাই কৌতূহলের মাত্রা আরও বাড়ে। বৃহস্পতিবার দু’পক্ষকেই বৈঠকে ডেকেছিল কমিশন। পৃথক দুই ম্যারাথন বৈঠকে ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি। ছিলেন তিন ডেপুটি কমিশনারও। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, অসমে জোড়াফুলের প্রতীকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী লড়তে পারবেন। কারণ, সেখানে দ্বিতীয় দাবিদার নেই। কিন্তু সমস্যা পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচন ঘিরে। 

Advertisement

এদিন দুপুর ৩টেয় প্রথমে ঋত গোষ্ঠীর পাঁচজনের সঙ্গে এক ঘণ্টারও বেশি কথা বলে কমিশন। পরে মমতা গোষ্ঠীর সঙ্গে দেড় ঘণ্টা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও ছিলেন ওই গোষ্ঠীর সভাপতি অরূপ রায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, আখরুজ্জামান এবং আইনজীবী আমন ঝা। মমতাপন্থীদের হয়ে কমিশনের সামনে সওয়ালে হাজির হন ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ এবং তাঁদের আইনজীবী অভিনব সিং। বৈঠকের পর ঋতব্রত বলেন, ‘কমিশন কিছু কাগজপত্র ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চেয়েছিল। সময়েই সব জমা করেছি। এরপরও কমিশন আসতে বলেছিল বলে এসেছি।’ জানা গিয়েছে, ঋতব্রতরা আলিপুর আদালতের একটি অর্ডার জমা করেন। এছাড়া, গত শনিবার কমিশনের দ্বারকার অফিসে ডেকে যা জানতে চাওয়া হয়েছিল, সেগুলিই নতুন করে এদিনও জানতে চান কমিশনের কর্তারা। 
মমতাপন্থীদের পক্ষে কমিশনের সামনে সওয়ালে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা, দলের অন্দরে কাদের রক্ত বইছে, তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সতীর্থদের পাশে নিয়ে কল্যাণ বলেন, ‘মমতা ব঩ন্দ্যোপাধ্যায় যে দলের জন্ম দিলেন, আচমকা ২০২৩ সালে জোড়াফুলে যোগ দেওয়া ঋতব্রত কীভাবে তার জনক বলে দাবি করতে পারেন? তাছাড়া ভারতবর্ষে যদি কোনো একজন সাংসদকে দু’টি রাজনৈতিক দল সাসপেন্ড করে থাকে, তার নাম ঋতব্রত। একবার সিপিএম, একবার তৃণমূল তাঁকে সাসপেন্ড করেছে।’ কল্যাণ আরও বলেন, ‘তৃণমূলের সাংগঠনিক সংবিধান মোতাবেক, তিন বছর নয়। পাঁচ বছর অন্তর নির্বাচন। ফলে ২০২২ সালের ২০২৭ সালে দলীয় নির্বাচন হবে। জেলার নীচুস্তর থেকে নির্বাচন হবে। ঋতব্রতদের অংশে সেই নির্বাচন কোথায় হয়েছে? ঋতব্রতদের দাবি অসাংবিধানিক।’ 
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন—প্রতীকে কারা লড়বে? জানতে চাওয়ায় দু’পক্ষেরই জবাব, সেটা নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, জোড়াফুল প্রতীক উপনির্বাচনের আগে ‘ফ্রিজ’ হয়ে গেলে দুই তৃণমূলের প্রার্থীদেরই ফ্রি সিম্বল নিয়ে লড়তে হতে পারে। কিংবা নির্দল হিসাবে। সেটা কমিশন এবং দল, উভয়ের সম্মতিতে হবে। কমিশন জানিয়েছে, তাদের কাছে ১৮৪টি ফ্রি প্রতীক রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বেলুন থেকে বালিশ, চপ্পল থেকে চেজবোর্ড। এখন দেখার, ফ্রি প্রতীক বা নির্দল হিসাবে লড়াই? নাকি প্রতীক ফ্রিজ হলে সুপ্রিম কোর্টে যাবে তৃণমূলের দু’পক্ষই? কুণাল ঘোষ কিন্তু বলেছেন, ‘নেত্রীই বড়ো, সিম্বল নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানেই দাঁড়াবেন, সেখান থেকেই তাঁর পিছনে মানুষের লাইন  শুরু হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ