Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

গ্রিনল্যান্ড দখল: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব ডেনমার্ক, পাশে দাঁড়াল ফ্রান্স

আমেরিকা যেন এখন রক্তের স্বাদ পাওয়া বাঘ। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার করে নিউ ইয়র্কে এনেছে ওয়াশিংটন। শনিবারের সেই অপারেশনের সাফল্যে উজ্জীবিত ট্রাম্প এবার একাধিক দেশের উপর নজর দিয়েছেন।

গ্রিনল্যান্ড দখল: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব ডেনমার্ক, পাশে দাঁড়াল ফ্রান্স
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নুক: আমেরিকা যেন এখন রক্তের স্বাদ পাওয়া বাঘ। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার করে নিউ ইয়র্কে এনেছে ওয়াশিংটন। শনিবারের সেই অপারেশনের সাফল্যে উজ্জীবিত ট্রাম্প এবার একাধিক দেশের উপর নজর দিয়েছেন। তবে তাঁর পয়লা টার্গেট যে গ্রিনল্যান্ড, তা গোপন করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ডেনমার্কের নেতৃত্বাধীন এই আধা স্বশাসিত এলাকাকে ‘অধিগ্রহণ’ করার হুমকি দিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস ফেডরিক নিয়েলসন সোমবার বলেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে। আর নয়।’ ফেসবুকে ফেডরিক লিখেছেন, ‘আর কোনও চাপ নয়। কোনও ইশারা নয়। জোড় করে ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্ভট খেয়াল নয়। আমরা আলোচনার জন্য তৈরি। আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান জানিয়ে যথাযথ পথে এই আলোচনা করতে হবে।’ তাঁর সাফ কথা, ‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের বাসভূমি, আমাদের দেশ। এটা আমাদেরই থাকবে।’ আর ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ফেডরিকসেন আমেরিকার উদ্দেশে বলেছেন ‘ঐতিহাসিকভাবে সহযোগী দেশকে হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন। গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।’

Advertisement

রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার কারণে আমাদের গ্রিনল্যান্ড চাই। এটা এখন কৌশলগত অবস্থায় রয়েছে। রাশিয়া এবং চীনের জাহাজ পরিবৃত রয়েছে গ্রিনল্যান্ড।’ এই অবস্থায় গ্রিনল্যাল্ডের পাশে দাঁড়িয়েছে ফ্রান্স। সেদেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র পাসকাল কনফ্যাভরিউক্স সোমবার বলেন, ‘ক্ষমতা প্রয়োগ করে সীমান্ত বদল করা যায় না। গ্রিনল্যান্ড কেবল গ্রিনল্যান্ডবাসীর এবং ডেনমার্কের। সেই দেশের ভবিষ্যৎতাঁদেরই ঠিক করতে দিন।’ ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবি এই প্রথম নয়। জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সুর চড়িয়েছেন তিনি। ‘দ্য অতলান্তিক’ ম্যাগাজিনকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের গ্রিনল্যান্ড চাই। প্রতিরক্ষার স্বার্থেই এটা আমাদের দরকার।’ সেবার ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ফেডরিকসেন বলেছিলেন, ‘আমেরিকার গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কোনও মন্তব্য করা সঙ্গত মনে করছি না। ড‌্যানিশ কিংডমের অধীনস্থ তিনটি দেশের একটিকেও সংযুক্তির অধিকার আমেরিকার নেই।’ 
গ্রিনল্যান্ডের পাশাপাশি ট্রাম্পের নজরে রয়েছে কলম্বিয়া, কিউবাও। মাদুরোর মতোই কলম্বিয়ার বিরুদ্ধেও ট্রাম্পের অস্ত্র মাদক সন্ত্রাসবাদ। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো একজন দুর্বল মানুষ। তিনি কোকেন তৈরি করতে ভালোবাসেন। এগুলি আমেরিকার বাজারে বিক্রি করেন। দীর্ঘদিন তিনি এসব চালাতে পারবেন না।’ কিউবাকে নিয়ে ট্রাম্প কিছুটা মশকরা করেছেন। তাঁর কথায়, ‘সেখানে হয়তো সেনা অভিযানের প্রয়োজনই নেই। দেশটা তো ভাঙনের মুখেই।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ