নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ১৯৭৮ সালে মারা গিয়েছেন ময়না থানার তিলখোজা গ্রামের জ্ঞানেন্দ্রনাথ বেরা। ১৯বছরের এক বধূর উপর নির্যাতনের মামলায় অভিযুক্ত ৪৭বছর আগে মৃত জ্ঞানেন্দ্রনাথবাবুও! ময়না থানা এলাকায় ওই ঘটনায় এলাকায় হইচই পড়ে গিয়েছে। মৃত জ্ঞানেন্দ্রনাথবাবুর নাতি অভিজিৎ বেরা পেশায় গ্রিন পুলিস। বিধাননগর পুরসভা এলাকায় কর্মরত। ২০২২সালে জুন মাসে তাঁর সঙ্গে নন্দকুমার থানার ভুঁইয়াখালি গ্রামের এক যুবতীর বিয়ে হয়। ওই দম্পতির এক বছরের সন্তানও আছে। গত ১৭মে ওই গৃহবধূ তাঁর উপর নির্যাতনের মামলায় শ্বশুরবাড়ির মোট ১০জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন। সেই তালিকায় ৪৭বছর আগে মৃত অভিজিতের ঠাকুরদাও আছেন। এছাড়াও অভিজিতের বাবা-মা, দুই ভাই, মামা, মামি, মাসি ও মেসো প্রমুখ আছেন। বুধবার তাঁরা পূর্ব মেদিনীপুর সিজেএম কোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন।
গত ১৭মে ওই যুবতী ময়না থানায় গিয়ে স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের ধারায় এফআইআর করেন। মোট ১০জনের মধ্যে এফআইআরে তিন নম্বরে অভিজিতের ঠাকুরদা জ্ঞানেন্দ্রনাথ বেরার নাম রয়েছে। এফআইআর দায়ের হওয়ার পর ময়না থানার পুলিস নোটিস নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে হাজির হয়। ৪৭বছর আগে নিহত ওই ব্যক্তির নামেও নোটিসের কপি ছিল। পরিবারের লোকজন তিনি মৃত জানানোর পর পুলিস ওই নোটিস নিয়ে থানায় ফিরে যায়। বধূ নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত বাকি ন’জন বুধবার আদালতে জামিন নিয়েছেন। সেইসময় অভিজিৎ তাঁর মৃত ঠাকুরদার নামেও এফআইআর করার বিষয়টি নজরে আনেন। ওই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর কোর্ট চত্বরেও হইচই হয়।
অভিজিতের প্রতিবেশী পেশায় এনভিএফ কর্মী কানাইলাল জানা বলেন, বধূ নির্যাতনের মামলায় অনেক সময় নিরীহ মানুষকেও ফাঁসানো হয়। ৪৭বছর আগে মৃত এক ব্যক্তির নাম এফআইআরে আনার মধ্য দিয়ে সেটা আরও একবার সামনে এল।
নির্যাতনের অভিযোগ আনা ওই যুবতীর স্বামী অভিজিৎ বেরা বলেন, বিয়ের পর আমাদের দাম্পত্যে কোনওরকম সমস্যা নেই। আমার রোজগারের একটা অংশ শ্বশুরবাড়িতে কেন দিচ্ছি না, এনিয়ে সমস্যার সূত্রপাত। তারপর আমার স্ত্রী প্রায় দেড় বছর বাপের বাড়িতে থাকছে। তাকে মারধর কিংবা নির্যাতনের অভিযোগও ঠিক নয়। আমরা থানায় গিয়ে গোটা বিষয়টি বলেছি। আমার মেজ ভাই মৃগী রোগী। ছোট ভাই অন্য রাজ্যে থাকে। আমার বিয়ের অনুষ্ঠানে শেষবার বাড়ি এসেছে। এফআইআরে তাদের নামও রয়েছে। মধ্যপ্রদেশে আমার মামা কর্মরত। সেই মামা এবং মামিও অভিযুক্ত।
অভিযোগকারী যুবতীর মা বলেন, আমার মেয়ের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। যেকারণে মেয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে আসে। জ্ঞানেন্দ্রনাথবাবু মৃত। ভুলবশত তাঁর নাম এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে। ময়না থানার পুলিস জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নামে এফআইআর হয়েছে। নোটিস ইস্যু করার সময় বিষয়টি সামনে এসেছে। মামলা থেকে মৃত ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া হবে।