নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: খেত থেকে ভুট্টা উঠতেই কাঁঠালে পাক ধরেছে। ফলে পাকা কাঁঠালের লোভে যেকোনও সময় জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে হানা দিতে পারে হাতির পাল। বন আধিকারিকরা বলছেন, সারাবছরের নিরিখে মানুষ ও হাতির সবচেয়ে বেশি সঙ্ঘাতের ঘটনা ঘটে মে-জুলাইয়ের মধ্যে। ফলে এসময় জঙ্গলে হাতির অবস্থান জানতে জিপিএস মনিটরিংয়ে জোর দিচ্ছে বনদপ্তর। টহল দেওয়ার সময় জঙ্গলের ধারে কাছে কোথাও হাতির বড় দল চোখে পড়া মাত্রই জিপিএসে লোকেশন শেয়ার করছেন বনকর্মীরা। সেইমতো হাতির দলটি সম্ভাব্য কোন পথ দিয়ে লোকালয়ে ঢুকতে পারে, তা দেখে নিয়ে মুহূর্তে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের। এজন্য গোরুমারা, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের পাশাপাশি বনদপ্তরের বৈকুণ্ঠপুর ডিভিশনের পক্ষ থেকে রোজ রাতে অন্তত ৭হাজার মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। একেবারে থানার ইনচার্জ থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, এলাকার স্কুল শিক্ষক, ভিলেজ পুলিস, চা বাগান কর্তৃপক্ষ, বনসুরক্ষা কমিটির সদস্য এমনকী জঙ্গল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইলে যাচ্ছে ওই মেসেজ। লোকালয়ে হাতির হানা রুখতে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভলান্টিয়ারি এলিফ্যান্ট স্কোয়াড। সেইসঙ্গে হাতি তাড়াতে দক্ষ বনকর্মীদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে র্যাপিড রেসপন্স টিম। পুলিস চৌকির ধাঁচে ডুয়ার্সের বেশকিছু হাতির করিডরে বসানো হয়েছে এলিফ্যান্ট মনিটরিং ক্যাম্প। নতুন করে কিছু জায়গায় ফেন্সিং দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বনদপ্তর। সেইসঙ্গে চলছে মাইকিং। কোথাও হাতি বেরনোর ঘটনা ঘটলে বাসিন্দারা কোনওভাবে যাতে নিজেরা হাতি তাড়ানোর চেষ্টা না করেন, সেব্যাপারে প্রচার চালাচ্ছে বনদপ্তর। বন আধিকারিকদের দাবি, লোকালয়ে হাতি ঢোকার খবর পাওয়া মাত্র ভিডিও, সেলফি তোলার হিড়িকে মেতে উঠছেন বাসিন্দাদের একাংশ। এরই জেরে মেজাজ হারাচ্ছে হাতি। ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। এমনকী মৃত্যুও ঘটছে। কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রকের তথ্য বলছে, গত বছর বাংলায় হাতির হামলায় মৃত্যু ৯৯টি। এর মধ্যে বেশিরভাগ উত্তরবঙ্গে। চলতি বছরেও হাতির হানায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে চলেছে। পয়লা জুন ফালাকাটায় ৩৫দিনের শিশু সহ একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে হাতির হামলায়। সম্প্রতি জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর ডিভিশনের অধীনে গজলডোবা সংলগ্ন এলাকায় হাতির হানায় বেঘোরে প্রাণ গিয়েছে তিনজনের।



