প্রীতেশ বসু, কলকাতা: সরকারি জমি কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে বিক্রি করতে গেলে রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক। রাজ্য সরকারের অন্য কোনও দপ্তর বা কেন্দ্রীয় কোনও মন্ত্রককে জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও মন্ত্রিসভার অনুমোদন আবশ্যিক। কিন্তু এই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জেলায় জেলায় সরকারি জমি ব্যক্তি-মালিকদের বিক্রি বা দীর্ঘমেয়াদি লিজে দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভা ঘূণাক্ষরেও টের পাচ্ছে না। কীভাবে সম্ভব হচ্ছে এই ‘পুকুর চুরি’? জানা গিয়েছে, এর নেপথ্যে বিভিন্ন পঞ্চায়েত, পুরসভা বা সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থার (প্যারাস্টেটাল সংস্থা) ভূমিকা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের একাংশের যোগসাজশ ছাড়া এটা সম্ভব নয়। তাই কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল নবান্ন। রীতিমতো নির্দেশিকা জারি করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। সেই সঙ্গে প্রতিটি দপ্তর এবং জেলা প্রশাসনকে এই ধরনের বেআইনি জমি বিক্রি বা লিজের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে যে কোনও সরকারি জমির বিক্রি বা লিজ সংক্রান্ত ‘সেটেলমেন্ট’ হয় ২০১২ সালের ‘দি ল্যান্ড অ্যালটমেন্ট পলিসি’র ভিত্তিতে। সরকারি দপ্তর, প্যারাস্টেটাল বডি, রাজ্যের সহায়তাপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বশাসিত সংস্থার জমি সহ রাজ্যের সমস্ত সরকারি জমির বিক্রি বা লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিসংস্কার এবং অর্থদপ্তরের ছাড়পত্র আবশ্যিক। তার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিলমোহর দেয় মন্ত্রিসভা। কিন্তু এই পদ্ধতির মধ্যে না গিয়ে স্থানীয়স্তরে বোঝাপড়া করে জমি বিক্রির রিপোর্ট আসাতেই নড়েচড়ে বসে নবান্ন। ২৪ এপ্রিল জারি হয় ভূমিসংস্কার দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব বিবেক কুমারের স্বাক্ষরিত নির্দেশিকা। সেখানে সাফ বলে দেওয়া হয়, ‘মন্ত্রিসভার অনুমোদন ছাড়া সরকারি জমি বিক্রি বা লিজ দেওয়া সম্পূর্ণভাবে নিয়ম লঙ্ঘন... যে ব্যক্তি বা আধিকারিক এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তিনি বা তাঁরা নিজেদের জন্য শাস্তিমূলক পরিণতি ডেকে আনবেন।’
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে নিজেদের অধীনস্ত সমস্ত বিভাগে চিঠির প্রতিলিপি পাঠিয়ে তথ্য তলব করেছে দপ্তরগুলি। সব তথ্য নবান্নে জমা পড়লে এই কারবারের পিছনে কারা, তা সামনে আসবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। তবে কোথায় কোথায় এমন বেআইনি জমি বিক্রির খবর এসেছে, তা এখনই প্রকাশ্যে আনতে নারাজ রাজ্য। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি হওয়ার পরই নবান্ন সামগ্রিকভাবে ব্যবস্থা নেবে।