Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি ফান্ড তছরুপ: জালে সেই রহস্যময়ী

সরকারি ফান্ড থেকে চার কোটি বিয়াল্লিশ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগে এবার ধৃত মূল অভিযুক্ত সুব্রত চন্দের  ‘বিশেষ বান্ধবী’ দীপা সাহা অধিকারী।

সরকারি ফান্ড তছরুপ: জালে সেই রহস্যময়ী
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:১০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: সরকারি ফান্ড থেকে চার কোটি বিয়াল্লিশ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগে এবার ধৃত মূল অভিযুক্ত সুব্রত চন্দের  ‘বিশেষ বান্ধবী’ দীপা সাহা অধিকারী। তিনি রায়গঞ্জের উকিলপাড়ার বাসিন্দা। রবিবার পুলিশ তাঁকে জলপাইগুড়ির লাটাগুড়ির একটি বিলাসবহুল রিসর্ট থেকে গ্রেপ্তার করে আনে। এদিন তাঁকে জেলা আদালতে হাজির করা হয়। সরকারি আইনজীবী নীলাদ্রি সরকারের বক্তব্য, পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে দীপাকে পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে।

Advertisement

জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা বলেন, পুলিশ তদন্ত করে একের পর এক অভিযুক্তকে টাকা তছরুপের ঘটনায় গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় আরও কেউ যদি কেউ জড়িত থাকেন, তাঁরাও ধরা পড়বে।
সুব্রতরা ধরা পড়ার পর খোঁজ চলতে থাকে দীপার। পুলিশ সূত্রে খবর, গত একমাস হন্যে হয়ে তাঁর খোঁজ চলছিল। একের পর এক আস্তানা পরিবর্তন করতেন অভিযুক্ত মহিলা। তবে, পুলিশ হাল ছাড়েনি। শেষপর্যন্ত গোরুমারা বনাঞ্চল লাগোয়া লাটাগুড়ির একটি রিসর্ট থেকে মহিলাকে পাকড়াও করা গিয়েছে। এই মহিলা সকলকে পরিচয় দিতেন সরকারি আধিকারিকের স্ত্রী হিসেবে। যদিও তাঁর স্বামী কোনও সরকারি আধিকারিক নন। তদন্তে জানা গিয়েছে, এই কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত সুব্রতর হাতানো বিপুল টাকার অনেকটা এই মহিলার কাছে গচ্ছিত রয়েছে। এবার তারই অনুসন্ধান চালানো হবে।
জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে চার কোটি বিয়াল্লিশ লক্ষ টাকা হাতানোর দায়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রায়গঞ্জ পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেলাশাসক দপ্তরের প্রধান হিসেবরক্ষক তথা হেডক্লার্ক সুব্রত এবং জেলা জমি অধিগ্রহণ দপ্তরের অস্থায়ী ডাটা এন্ট্রি কর্মী দেবদীপ ভট্টাচার্যকে। প্রতারণা, কর্মক্ষেত্রে নথিপত্র জালিয়াতি, সরকারি আধিকারিকদের সই নকল সহ একাধিক ধারায় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ অভিযুক্তদের ও যোগসাজশকারীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে আর্থিক তছরুপের ব্যাপারে রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন জেলা প্রশাসনের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার এক আধিকারিক। এই অভিযোগ দায়েরের আগে  অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় বিস্তারিত তদন্ত করে প্রশাসন। এরপরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়। তখন থেকে এই কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সুব্রত ও তার বিশেষ বান্ধবীর বিষয়ে জানা যায়। ইতিমধ্যে পুলিশ একদফায় সুব্রত ও দেবদীপকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ