Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতা পুরসভা ভেঙে দিল সরকার, কমিশনারই প্রশাসক, কাউন্সিলার নেই, নাগরিক শংসাপত্র নিয়ে সংশয়

কলকাতা পুরসভা ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিযুক্ত করেছে রাজ্য সরকার। কাউন্সিলারদের ক্ষমতা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। বিস্তারিত পড়ুন।

কলকাতা পুরসভা ভেঙে দিল সরকার, কমিশনারই প্রশাসক, কাউন্সিলার নেই, নাগরিক শংসাপত্র নিয়ে সংশয়
  • ৯ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মেয়র ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দিয়েছিলেন শুক্রবার। তারপর ৭২ ঘণ্টা অতিক্রান্ত। অবশেষে ছোটো লালবাড়িতেও অন্ত হল তৃণমূলি শাসনের। তৃণমূল পরিচালিত কলকাতা পুরসভা ভেঙে দিল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। পুর বোর্ডকে সরিয়ে বসানো হল প্রশাসক বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডেকেই প্রশাসক হিসাবে নিযুক্ত করেছে অগ্নিমিত্রা পালের পুর বিষয়ক দপ্তর। সোমবার সন্ধ্যায় এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। যদিও এই বিজ্ঞপ্তি ঘিরে কিছু সংশয় রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম—কাউন্সিলারদের হাতে তাহলে কী কী ক্ষমতা থাকছে? নিয়মিত বহু শংসাপত্র দিতে হয় তাঁদের। নাগরিকদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাগজে সই করতে হয়। কিন্তু প্রশাসক বসে যাওয়ার পর কাউন্সিলারদের আর সেই ‘সাইনিং অথরিটি’ থাকছে না বলেই খবর। সেক্ষেত্রে স্থানীয় স্তরে এই ধরনের শংসাপত্রগুলি কে ইস্যু করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেল। এই প্রসঙ্গে এক প্রশাসনিক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘সাইনিং অথরিটি’ কারা হবে, তা নিয়ে প্রয়োজনে পরে আলাদা নির্দেশিকা জারি হবে।   

Advertisement

গত শুক্রবার বিকেলে ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরই কলকাতা পুরসভার পরিস্থিতি জানানোর জন্য কমিশনারকে চিঠি দেয় পুর বিষয়ক দপ্তর। ৭২ ঘণ্টা সময়ও দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, পুরসভার শাসক পক্ষকে ওই সময়কালের মধ্যে পুর দলের পরবর্তী নেতা বা নতুন মেয়র নির্বাচনের পদক্ষেপ করে পুর কমিশনারকে জানাতে হয়। নির্দিষ্ট সময়কালের মধ্যে মেয়র নির্বাচন না করা গেলে পুর আইন অনুসারে প্রশাসক বসিয়ে দিতে পারে দপ্তর। এক্ষেত্রে অবশ্য মেয়র নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল তৃণমূল। কাউন্সিলারদের কাছ থেকে সই সংগ্রহের চেষ্টা চলে। সেজন্য প্রথমে রবিবার বিকালে তৃণমূল ভবনে বৈঠকও ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তা বাতিল হয়ে যায়। পরে সই করার জন্য কাউন্সিলারদের ফোন করে ডাকা হয়েছিল ভবানীপুরে সুব্রত বক্সির পার্টি অফিসে। কিন্তু সূত্রের খবর, যেখানে ৭৪ জন কাউন্সিলারের সই প্রয়োজন, সেখানে স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় মাত্র ৩২। ফলে গোটা প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়ে। এই অবস্থায় সোমবার নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেন পুর বিষয়ক দপ্তরের সচিব খলিল আহমেদ। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বোর্ড ভেঙে গেল। সেক্ষেত্রে চেয়ারপার্সন, মেয়র পরিষদ সহ নানা কমিটি বা জনপ্রতিনিধিদের আর কোনো ভূমিকা থাকছে না। 
করোনা-কালে পুর বোর্ডের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর ভোট না হওয়ায় বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস বসানো হয়েছিল কলকাতা পুরসভায়। তখন কাউন্সিলাররা ছিলেন কো-অর্ডিনেটর। কিন্তু বর্তমানে পুর বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়নি। তার আগেই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মেয়র পদত্যাগ করায় প্রশাসক বসিয়ে দিয়েছে রাজ্য। সেক্ষেত্রে ১৪৪ জন কাউন্সিলারের ‘পরিচয়’ কী, বিভিন্ন নাগরিক শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের আছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিপুল নাগরিক চাহিদা মেটাবে কে, সেই প্রশ্নও উঠেছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ