সংবাদদাতা, মানকর: বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। অথচ হুঁশ নেই প্রশাসনের। গলসির সাঁকো পঞ্চায়েত এলাকার ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স হেলায় পড়ে থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে রোগীদের নিয়ে যেতে-আসতে প্রায় দ্বিগুণ টাকা খরচ করে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হচ্ছে। কাজেই প্রায় বিকল হয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি ফের চালুর দাবি করছেন এলাকার মানুষ। পঞ্চায়েত প্রধান শিখা সাঁতরা বলেন, অ্যাম্বুলেন্স চালু নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। গলসি-২এর বিডিও মৈত্রী ভৌমিক বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রামীণ এলাকায় মানুষদের জন্য ‘জীবনসাথী’ প্রকল্পে ওই অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছিলেন। প্রথমে কয়েক বছর ঠিকঠাক চললেও দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই অ্যাম্বুলেন্স পঞ্চায়েতের সামনে পড়ে রয়েছে। জমছে ধুলো। লতা, আগাছায় মুড়ে গিয়েছে অ্যাম্বুলেন্সটির চাকা।
স্থানীয়রা বলেন, অ্যাম্বুলেন্সটি চালু হলে শশঙ্গা, বড়দিঘি, বড়মুড়িয়া সহ অনেক গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন। এলাকার অনেক গরিব মানুষের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার সামর্থ্য নেই। অথচ সরকারের দেওয়া অ্যাম্বুলেন্স পঞ্চায়েতের গড়িমসির জন্য চালু হচ্ছে না। ‘কোনও অজ্ঞাত কারণে’ পরিষেবা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁরা জানান, এখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বা পুরষা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা ছাড়া উপায় থাকে না রোগীর পরিবারের। শশঙ্গার বাসিন্দা শেখ জামালউদ্দিন বলেন, আমার মেয়ে সন্তানসম্ভবা ছিল। গত ২০মে ১০২ ডায়াল করলে বলা হয় অ্যাম্বুলেন্স নেই। শেষে বাধ্য হয়ে বেশি টাকা খরচ করে গাড়ি ভাড়া করতে হয়েছিল। অথচ ওই অ্যাম্বুলেন্স চালু থাকলে সমস্যায় পড়তে হতো না।
গলসির বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক ফিরোজ আলি কাঞ্চন বলেন, আগের পঞ্চায়েতের আমলে কয়েকদিন চলেছিল অ্যাম্বুলেন্সটি। তারপর থেকেই বেহাল হয়ে পড়ে আছে। অথচ রোগী নিয়ে যাওয়ার জন্য যে গাড়ি ভাড়া করা হয়, তাতে অনেক সময় লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমও থাকে না। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে গরিব মানুষকে।
এনিয়ে সিপিএম নেতা সফিউল হক বলেন, অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামত করে অবিলম্বে চালু করা হোক। এলাকার বহু মানুষের উপকার হবে এতে।
বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, রাজ্য সরকার প্রকল্প শুরুর পর আর তা চালু রাখে না। অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা থেকে এলাকার সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। -নিজস্ব চিত্র