নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: উচ্চ মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় জায়গা করে নিল হুগলির ১৪ ছাত্র-ছাত্রী। গোটা রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থান হুগলি জেলার। এই জেলায় মাধ্যমিকের ফলাফল মাঝারি মানের হয়েছিল। উচ্চ মাধ্যমিকে সে আক্ষেপ কাটল। ফলে উচ্ছ্বাস জেলাজুড়ে। সর্বোচ্চ মেধাবীদের জেলা হওয়াই শুধু নয়, উত্তীর্ণের সংখ্যার নিরিখেও উল্লেখযোগ্য স্থান এই জেলার। পাশের হার ৯১.৩৭ শতাংশ। রাজ্যের মধ্যে নবম স্থান।
এ বছর ছাত্রদের পাশের হার ছাত্রীদের তুলনায় বেশি। ৯৩.৪৬ শতাংশ ছাত্র পাশ করেছেন। আর ৮৯.৭০ শতাংশ ছাত্রী কৃতকার্য হয়েছেন। মেধা তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে, তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন হুগলির আরামবাগের রাজর্ষি অধিকারী। ৪৯৫ নম্বর পেয়ে তিনি জেলার মধ্যে প্রথম। পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন একজন। ষষ্ঠ স্থানে দু’জন। সপ্তম হয়েছেন তিনজন। অষ্টমও তিনজন। নবম দু’জন। দশম স্থানে আছেন দু’জন। জেলার দুই ছাত্রী মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছেন। হুগলির ডানকুনির শ্রেষ্ঠা মুখোপাধ্যায় রাজ্যের মধ্যে অষ্টম স্থান অধিকার করেছেন এবং জেলায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন। আর রাজ্যের মধ্যে দশম স্থান তারকেশ্বরের অদ্রিসা সামন্তর। হুগলি জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ের সেরা ফলাফল এবারই হয়েছে। মাধ্যমিকের ফলাফল আমাদের একটু কষ্ট দিয়েছিল। উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যের প্রথম জেলা হতে পেরে সেই কষ্ট দূর হয়েছে।’
জেলায় ছেলেদের মধ্যে প্রথম আরামবাগ হাই স্কুলের রাজর্ষি ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চান। ওই স্কুলেরই প্রান্তিক গঙ্গোপাধ্যায় রাজ্যের মধ্যে পঞ্চম হয়েছেন। ৪৯২ নম্বর পেয়ে আরামবাগের আরাফাত হোসেন ও চন্দননগরের রৌণক গড়াই রাজ্যের মধ্যে ষষ্ঠ হয়েছেন। চন্দননগরের শ্রী অরবিন্দ বিদ্যামন্দিরের বিজ্ঞান বিভাগের রৌণক ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হতে চান। গল্পের বইয়ের পোকা রৌণক। বাবা স্কুল শিক্ষক। মা গৃহবধূ। এছাড়া ৪৯১ নম্বর সহ মেধাতালিকায় সপ্তম স্থানে আছেন আরামবাগের মহম্মদ তানজিদ, অঙ্কণ নন্দী ও শ্রীরামপুরের নন্দলাল ইনস্টিটিউশনের তন্ময় হালদার। ৪৯০ নম্বর সহ মেধা তালিকায় অষ্টম স্থান অধিকার করেছেন আরামবাগের রাজদীপ শাসমল, শ্রীরামপুরের মাহেশ রামকৃষ্ণ আশ্রমের ছাত্র ও বৈদ্যবাটির বাসিন্দা অগ্রদীপ বেরা এবং ডানকুনির শ্রেষ্ঠা মুখোপাধ্যায়। শ্রেষ্ঠা কলাবিভাগের ছাত্রী। তিনি ভবিষ্যতে ফরেন সার্ভিসে যোগ দিতে চান। সবাই যখন চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার দৌড়ে সামিল তখন আগে থেকেই কলা বিভাগে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন শ্রেষ্ঠা। তিনি বলেন, ‘আপাতত রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়াশোনা করা লক্ষ্য।’ মেধা তালিকায় নবম স্থান পেয়েছেন মাহেশ রামকৃষ্ণ আশ্রমের জিষ্ণু ঘোষ ও আরামবাগের গোঘাটের সপ্তর্ষি পাঁজা। দু’জনেরই প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৯। রাজ্যে দশম স্থান পেয়েছেন আরামবাগের সর্বজিৎ সাহা ও তারকেশ্বর নুটবিহারী পালচৌধুরী স্কুলের ছাত্রী অদ্রিসা সামন্ত। দু’জনের প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৮। নাচ ও ছবি আঁকা অদ্রিসার নেশা। তিনি বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ব ভেবে নিজেকে তৈরি করেছি।’ আরামবাগ হাইস্কুল ও মাহেশ রামকৃষ্ণ আশ্রমের ফলাফল চমকপ্রদ। শ্রীরামপুরের মাহেশ রামকৃষ্ণ আশ্রম থেকে দু’জন মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। সঙ্গে বিজ্ঞান বিভাগের ৩২ জন ও কলাবিভাগের আট জন ৯০ শতাংশেরও বেশি নম্বর পেয়েছেন।