নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কোলাঘাটে সিনার্জির আগে জেলা প্রশাসনের বৈঠকে ময়নার মৎস্য ব্যবসায়ী ও স্বর্ণশিল্পী সংগঠন পুলিশি হেনস্তার অভিযোগ তুলে সরব হল। আগামী ৮ ডিসেম্বর কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলার ৫০০ জন উদ্যোগপতি নিয়ে সিনার্জি হবে। সেখানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পদপ্তরের প্রধান সচিব রাজেশ পাণ্ডে এবং তিন জেলা প্রশাসনের অফিসাররা উপস্থিত থাকবেন। রাজ্য সরকারের ১২টি দপ্তরের অফিসারারও থাকবেন। তাদের স্টলও থাকবে। সিনার্জির মঞ্চে যাতে উদ্যোগপতিদের থেকে গুরুতর অভিযোগ না আসে, তার আগে মঙ্গলবার তমলুকে জেলাশাসক অফিসে প্রশাসন প্রস্তুতি মিটিং ডেকেছিল। সেখানে ময়নার মৎস্যচাষি ও ব্যবসায়ী সংগঠন এবং স্বর্ণশিল্পী সংগঠন পুলিশি হেনস্তার শিকার হচ্ছে বলে সরব হয়। মিটিংয়ে জেলা পুলিশের তরফে একজন ডিএসপি ছিলেন। জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল এনিয়ে ডিএসপিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।
জেলাশাসক বলেন, ‘ময়নার মৎস্য ব্যবসায়ী এবং স্বর্ণশিল্পীদের পক্ষ থেকে পুলিশের কাজকর্ম নিয়ে কিছু অভিযোগ ছিল। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে। বৈঠকে একজন ডিএসপি ছিলেন। স্বর্ণশিল্পীদের অভিযোগের বিষয়টি তাঁকে দেখতে বলা হয়েছে।’
আগামী ৮ ডিসেম্বর কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে সিনার্জির প্রস্তুতি চলছে। নতুন বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমানে বাধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সেই বৈঠকে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ৩০০, পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ১৫০ এবং ঝাড়গ্রাম থেকে ৫০ জন উদ্যোগপতি অংশ নেবেন। এছাড়াও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পদপ্তরের সবকটি বিভাগ, ভূমি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ, দমকল, স্যুইড, ইন্সপেক্টর অফ ফ্যাক্টরিজ, হ্যান্ডলুম সহ মোট ১২টি দপ্তর থেকে প্রায় ৩০০ জন অফিসার থাকবেন। যে সব বাধার জন্য এখনও বিনিয়োগ ঝুলে রয়েছে, তা এই সিনার্জি থেকেই সমাধানের ব্যবস্থা হবে।
ওই বৈঠকের আগে মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দপ্তরের অধীন বিভিন্ন সেক্টর থেকে উদ্যোগপতিদের নিয়ে একটা প্রস্তুতি মিটিং হয়। সেখানে কাদের কী অভিযোগ তা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ময়না ফিস ফার্মার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি পিণ্টু দাস পুলিশি হেনস্তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। পিণ্টুবাবু বলেন, ‘আগে মাছের গাড়ি থেকে পুলিশ শুধু তোলা আদায় করত। এখন তোলা আদায়ের পাশাপাশি কেস দেওয়া হচ্ছে। মাছের গাড়িতে জল থাকে। তাতে পাম্প বসানো থাকে। এজন্য ধরে ধরে কেস করা হচ্ছে। আমরা খুব সমস্যার মধ্যে রয়েছি।’
এর আগে গত ৬ আগস্ট রাজ্য বিধানসভার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি ময়নায় মৎস্য ব্যবসায়ী ও মৎস্য চাষিদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছিল। সেই কমিটির সামনে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছিলেন সংগঠনের কর্ণধার পিণ্টুবাবু। দৈনিক ময়না থেকে ৫০০ মাছের গাড়ি বিভিন্ন দিকে যায়। সেইসব গাড়ি থেকে পুলিশ রোজ সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা তোলা আদায় করছে বলে অভিযোগ ছিল তাঁর। সেই ঘটনার পর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একজন ডিএসপির নেতৃত্বে একটা কমিটি গড়ে তদন্ত হয়। বুধবার জেলাশাসক অফিসে পিণ্টুবাবুর অভিযোগ, স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছে নালিশ জানানোর পরও টাকা তোলা বন্ধ হয়নি। উপরি পাওনা হিসেবে মামলা জুটছে।
স্বর্ণশিল্পী সংগঠনের পক্ষ থেকেও পুলিশি হেনস্তার নালিশ করা হয়। তাদের অভিযোগ, সোনা কেনার পর নানা ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে। চোরাই সোনা বলে নানারকম কেস দেওয়া হচ্ছে। ১০ গ্রাম সোনা কিনলে সেটা চার-পাঁচ গুণ বাড়িয়ে বলা হচ্ছে। এতে সমস্যা আরও বাড়ছে। অথচ, অনেকেই দোকানে এসে সোনা বিক্রির জন্য জোরাজুরি করেন।’