নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া সীমান্তে ফের বড়সড় পাচার আটকে দিল বিএসএফ। শনিবার দুপুরে কৃষ্ণগঞ্জ থানার অন্তর্গত বানপুর সীমান্তে বিপুল পরিমাণ সোনার বিস্কুট উদ্ধার করলেন বিএসএফের ৩২ ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা। জানা গিয়েছে, মোট ১২ সোনার বিস্কুট পাওয়া গিয়েছে। তার মোট ওজন ১ কেজি ৬৬২ গ্রাম এবং বাজারমূল্য আনুমানিক ১ কোটি ৫৬ লক্ষ ৬ হাজার ১৮০ টাকা। যদিও কোনও পাচারকারী ধরা পড়েনি। তবে এবার অভিনব কায়দায় সীমান্ত এলাকায় গা ঢাকা দিচ্ছে চোরাকারবারিরা। এমনটাই মনে করছে বিএসএফের জওয়ানরা।
ইদানীং দেখা যাচ্ছে, ভারতের পাচারকারীরা সীমান্ত সংলগ্ন হাইড্রেনের মধ্যে লুকিয়ে কাঁটাতারের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। তারপর সেই ড্রেনেই অপেক্ষা করে, সীমান্তের ওপার থেকে বার্তা না আসা পর্যন্ত। সময়মতো বাংলাদেশের পাচারকারী কাঁটাতারের কাছে আসলেই সিগন্যাল পৌঁছে যায় ভারতের পাচারকারীদের কাছে। বিএসএফের নজর একটু হালকা হলেই ওপার থেকে পুঁটলি ভর্তি সোনার বিস্কুট উড়ে এসে পড়ে ভারতের ভূখণ্ডে। বানপুরের পাচারের ঘটনাতেও এমনটাই ঘটেছে বলে বিএসএফ জানিয়েছে।
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩ মে দুপুরের দিকে বানপুর সীমান্তে অভিযান চালান জওয়ানরা। ভারতের দিক থেকে তিনজন চোরাকারবারি সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় জড়ো হয়। শনিবার তারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে সোনার বিস্কুট পাচারের চেষ্টা করছিল। সেইমতো ভারতের চোরাকারবারিরা সোনার বিস্কুট ভর্তি পুঁটলিগুলি সংগ্রহ করতে গেলে, বিএসএফ জওয়ানরা তাদের ঘিরে ফেলে। কিন্তু এলাকার ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ার সুযোগ নিয়ে গ্রামের দিকে ছুটে পালায় তারা। ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি প্লাস্টিক-মোড়া প্যাকেট থেকে উদ্ধার করা হয় ১২টি সোনার বিস্কুট। সেগুলি বানপুর শুল্ক বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শনিবার রাতে কৃষ্ণগঞ্জ থানায় বিএসএফের তরফ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
বিএসএফ দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জনসংযোগ আধিকারিক বলেন, জওয়ানরা সীমান্তে চোরাচালানের অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সীমান্তবাসীদের সীমা সাথীর হেল্পলাইন নম্বর খোলা হয়েছে। সোনা ও রুপো চোরাচালান সম্পর্কিত যেকোনও তথ্য তাঁরা বিএসএফকে জানাতে পারেন।



