নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: হিলকার্ট রোডের ডাকাতির ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার তিন দুষ্কৃতী। তাদের সেখানকার আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডে শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের বিশেষ দল। যদিও দলের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে। তাই এখনই ধৃতদের নাম জানাতে রাজি হননি পুলিসের শীর্ষকর্তারা।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের আলিগড় সংলগ্ন এলাকা থেকে এক মহিলা সহ ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও ওই মহিলা ডাকাতির সময়ে সোনার দোকানে উপস্থিত ছিল না বলেই জানা গিয়েছে। বাকি দু’জন সরাসরি ওই ঘটনার সময় ছিল কি না, তা পুলিস এখনই জানাতে চায়নি। তাদের শিলিগুড়ি নিয়ে আসার পর ওই ঘটনার সত্য উন্মোচন হবে বলেই মনে করছেন পুলিসের শীর্ষে আধিকারিকরা।
রবিবার এপ্রসঙ্গে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, আমরা তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ট্রানজিট রিমান্ডে শিলিগুড়ি নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এর বেশি এখনই আর কিছু বলা সম্ভব নয়।
গত রবিবার শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে জুয়েলারি দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় আট সদস্যের একটি ডাকাত দল দোকানে ঢুকে বন্দুক উঁচিয়ে কর্মীদের বেঁধে রেখে ডাকাতির ঘটনা ঘটায়। ঘটনার পরেই হাতেনাতে দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। এরপর বিহার থেকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসা হয়। তবে, লুট হওয়া সামগ্রী এখনও উদ্ধার হয়নি। দলের বাকি সদস্যদের নাগাল পেতে মরিয়া পুলিস। এজন্য দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহারে মেট্রোপলিটন পুলিসের বিশেষ দল এখনও রয়েছে।
একাধিক সূত্র ধরে ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতীদের ধরতে লাগাতার তদন্ত শুরু করে পুলিসের বিশেষ দল। পুলিস সূত্রেই জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে, লুট হওয়া সামগ্রী উদ্ধার করা গিয়েছে কি না, সেই সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে পুলিসের পক্ষ থেকে এদিন পর্যন্ত কিছু বলা হয়নি। সূত্রের খবর, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা এই ডাকাতির ঘটনার পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, লুটের সামগ্রী কোথায় থাকবে, দলের সদস্যরা কোথায় আত্মগোপন করবে, এসব ব্যাপারে তারা জানে। লাগাতার জেরা করা হলে ঘটনার নেপথ্যে থাকা বহু রহস্যের জট ছাড়ানো সম্ভব বলে পুলিসের তদন্তকারী অফিসারদের একাংশ মনে করছেন। পাশাপাশি, ধৃত ছ’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করলে লুটের সামগ্রীও উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।